আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস আজ
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
বিশ্বজুড়ে কন্যাশিশুদের অধিকার সুরক্ষা, লিঙ্গবৈষম্য নিরসন এবং তাদের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও মর্যাদাপূর্ণ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে আজ ১১ অক্টোবর (রবিবার) বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬।
প্রতিবছরের মতো এবারও বাংলাদেশে এবং বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালনে গ্রহণ করা হয়েছে নানামুখী উদ্যোগ ও কর্মসূচি।
চলতি ২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এন্ড চাইল্ড ম্যারেজ অ্যান্ড ইনভেস্ট ইন গার্লস রাইটস (End child marriage and invest in girls rights!), যার বাংলা ভাবানুবাদ বাল্যবিয়ে বন্ধ করুন এবং মেয়েদের অধিকার সুরক্ষায় বিনিয়োগ করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের প্রতিপাদ্যটির তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও সময়োপযোগী। কারণ, এটি কেবল বাল্যবিয়ের মতো একটি সামাজিক ব্যাধি বা ক্ষতিকর প্রথা বন্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কন্যাশিশুর সামগ্রিক বিকাশ নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা, সঠিক প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, সাইবার সুরক্ষা, স্বাবলম্বিতা ও নেতৃত্বের অধিকারের ওপর সরাসরি বিনিয়োগের জোর তাগিদ দেয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ২০১১ সালের ১৯ ডিসেম্বর কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষায় একটি বিশেষ দিন পালনের প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। এরপর ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর প্রথমবারের মতো বিশ্বজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপন শুরু হয়। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে কন্যাশিশুদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকারের স্বীকৃতি দেওয়া এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্ব বিকাশে সর্বাত্মক সমর্থন জুগিয়ে যাওয়া।
দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, মানবাধিকার সংগঠন ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পর্যায়ে সভা, সেমিনার, র্যালি, আলোচনা সভা এবং ডিজিটাল সচেতনতামূলক প্রচারাভিযানের আয়োজন করা হয়েছে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে কন্যাশিশুরা এখনও বাল্যবিয়ে, বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া, পুষ্টিহীনতা, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সাইবার অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছে। এসকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে প্রতিটি কন্যাশিশুর জন্য সমান সুযোগ তৈরির প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে আজকের এই বিশেষ আয়োজনে।
জাতিসংঘ ও বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে অর্থবহ বিনিয়োগ বাড়াতে না পারলে বিশ্বব্যাপী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ব্যাহত হবে। কন্যাশিশুদের উপযুক্ত শিক্ষা ও মৌলিক অধিকারে বিনিয়োগ শুধু ব্যক্তিগত জীবনের রূপান্তর ঘটায় না, বরং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আনয়নে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে। তাই আজকের এই দিনে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, নীতি-নির্ধারক ও সুশীল সমাজের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেন বক্তৃতা-বিবৃতির সীমানা পেরিয়ে আইনি সুরক্ষা জোরদার এবং বাজেটে সরাসরি কন্যাশিশু কেন্দ্রিক পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








