নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ১০ অক্টোবর ২০২৬

সরকার ব্যর্থ হলে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন: দুদু

সরকার ব্যর্থ হলে দেশের অস্তিত্ব রক্ষা কঠিন: দুদু

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদকে পরাভূত করে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা সম্ভব উল্লেখ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো কারণে ব্যর্থ হলে বা গভীর কোনো ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অস্তিত্ব রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। তাই গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত রাখা এবং বর্তমান সরকারকে টিকিয়ে রাখতে সর্বস্তরের জনগণকে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দল আয়োজিত গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নাই শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গণ-অভ্যুত্থান ও জাতীয় ঐক্যের অপরিহার্যতা   শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য বজায় থাকলে কোনো অন্যায়ই টিকে থাকতে পারে না। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে সমগ্র জাতি দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল বলেই শেখ হাসিনার দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসন ও ফ্যাসিবাদের নির্মম অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে। তবে স্বৈরাচারী শক্তির ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। এ অবস্থায় অর্জিত গণতন্ত্র সুসংহত করতে হলে সব রাজনৈতিক দল ও নাগরিকের সমন্বয়ে একটি সর্বদলীয় ঐক্যের রূপরেখা বজায় রাখা অপরিহার্য।

সরকারের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া অতীতে কৃষকদের ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। তাঁর সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কৃষকদের সুদসহ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছেন। একইসঙ্গে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড-এর মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

দুদু আরও জোর দিয়ে বলেন, সরকারের এসব কল্যাণমুখী ও ইতিবাচক কাজের সাফল্য দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। কেবল অহেতুক সমালোচনার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। 

তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কাজে কোনো ভুলত্রুটি দেখা গেলে নাগরিক ও বিরোধী দল হিসেবে তা নির্দ্বিধায় ধরিয়ে দিতে হবে, যেন সরকার দ্রুত প্রয়োজনীয় সংশোধনী গ্রহণ করে ইতিবাচক ধারায় ফিরে আসতে পারে। 

আরও পড়ুন: পূজায় অরাজকতার আশঙ্কা, কঠোর পদক্ষেপ চান রিজভী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনধারা ও গণতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করে দেশের প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমগুলোর আলোচনার তথ্য টেনে সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতেন। তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমানও একই পৈতৃক আদর্শ অনুসরণ করছেন। রাজধানী ঢাকায় শহীদ জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমানের ব্যক্তিগত মালিকানায় কোনো বাড়ি বা অট্টালিকা নেই। 

অতীতের এক স্মৃতিচারণ করে দুদু বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানকে সামরিক বোর্ডের পক্ষ থেকে যে প্লটটি দেওয়া হয়েছিল, তিনি তা দেশের অন্য এক কর্মকর্তার প্রয়োজনে হস্তান্তর করে দেন এবং পরবর্তীতে তিনি নিজে আর কোনো প্লট নেননি। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানও রাষ্ট্রীয় কোনো প্লট সুবিধা গ্রহণ করেননি।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিগত আওয়ামী শাসন আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোথাও চলাচলা করলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও জনজীবন স্তব্ধ করে বন্ধ করে রাখা হতো। কিন্তু বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মতপ্রকাশ ও সভা-সমাবেশের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছেন। এখন একদিকে মন্ত্রী ও সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা নিজ নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করছেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো মুক্ত পরিবেশে তাদের সভা-সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। 

তিনি মন্তব্য করেন, আমি বিএনপি করি বলে বলছি না, তারেক রহমান যেমন বিএনপির চেয়ারম্যান, তেমনি তিনি বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের প্রধানমন্ত্রী।

দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি। 

দেশের কিছু কিছু অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অবস্থাতেই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং যেকোনো বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির। সভায় প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমতুল্লাহসহ সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন এবং গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধ থাকার দৃপ্ত শপথ ব্যক্ত করেন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়