স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২১, ১১ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

রূপপুরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া সম্পন্ন

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরে প্রথমবারের মতো সফলভাবে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া বা ক্রিটিক্যালিটি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জিত হলো।

রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন এ সাফল্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এম মাহমুদুল হাসান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

এ সময় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. এম মইনুল হোসেন এবং নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসানের কাছে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের অংশ হিসেবে ফিজিক্স টেস্ট শুরুর প্রয়োজনীয় লাইসেন্স হস্তান্তর করা হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এ অনুমোদনের ফলে রূপপুরের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরের ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু করা হয়।

এরই মধ্যে প্রথম ইউনিটের প্রেসারাইজার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) ব্যবস্থার পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে কেন্দ্রটির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম হয়েছে।

এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর ১৬ দশমিক ১ এমপিএ চাপ ও ২৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পিওআরভি/পিওএসভি ব্যবস্থার ১২টি পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। পরবর্তী ধাপে ১৮ দশমিক ৬৫ এমপিএ চাপে পরীক্ষার সময় প্রাথমিকভাবে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও পরে তা সমাধান করে পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়।

এনপিসিবিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার নির্ধারিত তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিস্তরে পরিচালনা করা হয়। এ সময় রিঅ্যাক্টরের গুরুত্বপূর্ণ পরামিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি রূপপুর প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এ ধাপসহ পুরো ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপের পর কেন্দ্রটি পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো, টারবাইনের সঙ্গে সমন্বয় এবং শেষ পর্যন্ত জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ করা হবে। এ জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে।

পুরো প্রক্রিয়ায় রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয়ের পাশাপাশি বায়রা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডসংশ্লিষ্ট সংস্থা, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সামরিক বাহিনী এবং নিউক্লিয়ার ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথম ইউনিটকে প্রাথমিকভাবে কম শক্তিতে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে ধাপে ধাপে উৎপাদনক্ষমতা ২০ থেকে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রিডে সংযুক্ত হওয়ার পর পরীক্ষামূলক উৎপাদন সাত থেকে আট মাস পর্যন্ত চলতে পারে।

বাণিজ্যিকভাবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আইসিইউতে ৪ জন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের মূল মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে তা ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মেয়াদ বাড়ানোর কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ না থাকলেও ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে ব্যয় প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকা বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়