নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

ফাইল ছবি

ব্যাপক আর্থিক লুটপাট ও কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে দেশের ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধারে আগামী ৫ থেকে ৮ বছর পর্যন্ত জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এসংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাব সরকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গভর্নর এই তথ্য জানান। 

অনুষ্ঠানে ইউআইইউর উপাচার্য মো. আবুল কাশেম মিঞা, ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আর্থিক খাতের অনিয়ম ও অর্থপাচারের চিত্র তুলে ধরে গভর্নর বলেন, তিনি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই লুট হয়ে গিয়েছিল। 

একে সাধারণ চুরি হিসেবে আখ্যায়িত না করে পরিকল্পিত লুটপাট হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের ভয়াবহতা প্রকাশের জন্য প্রচলিত শব্দচয়নও যথেষ্ট নয়।

লুট হওয়া অর্থের বিশালতা বোঝাতে এর সুযোগব্যয় তুলে ধরে গভর্নর জানান, এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে সরকার দেশের দুই কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সহায়তা দিতে পারত অথবা পদ্মা সেতুর মতো দুটি বিশালাকার অবকাঠামো প্রকল্প নির্মাণ করতে পারত। 

জনগণের এই অর্থ লুটের কারণে সাধারণ মানুষকে এখন চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীরা অর্থ লুট করে নিয়ে গেলেও এর পরিণতি বা জরিমানা বহন করতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকেই।

তারল্য সংকট উত্তরণে উদ্যোগ ও কঠোর বার্তাগ্রাহকদের অর্থ তুলতে না পারার মতো সংকটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে গভর্নর জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দুর্বল ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সরবরাহ করে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের ব্যবস্থা করছে। ইতোমধ্যে একীভূত হওয়া ব্যাংককে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের সব গ্রাহকও তাদের আমানত তুলতে সক্ষম হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

আরও পড়ুন: বিদেশগামীদের একবারে ৩ হাজার ডলার বিক্রির অনুমতি মানি চেঞ্জারদের

খেলাপি ঋণ ও আর্থিক অপরাধ দমনে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করে গভর্নর বলেন, চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণখেলাপি ও ব্যাংকগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে এর ব্যত্যয় ঘটলে ২০২৭ সাল থেকে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং আইনগতভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই লক্ষ্যে বর্তমানে দুটি আইন সংশোধন এবং মানি লন্ডারিং রোধের বিধিবিধান আরও কঠোর করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি লুট হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করা এবং ক্যাম্পাসে নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলা। এর অংশ হিসেবে ওয়ান ব্যাংকের সহায়তায় ইউআইইউ ক্যাম্পাসে বাংলা কিউআর পেমেন্ট সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

ওয়ান ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিত রহমান বলেন, দৈনন্দিন লেনদেন সহজ ও সুলভ করার মাধ্যমেই ডিজিটাল রূপান্তর সার্থক হয়। এই উদ্যোগের ফলে শিক্ষার্থীরা ইন্টারঅপারেবল বা আন্তপরিচালনযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্টের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন।

গভর্নর মোস্তাকুর রহমান তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, সারা দেশে বাংলা কিউআর ভিত্তিক লেনদেন সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজস্ব আহরণ বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমানে দেশের কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে রয়েছে, যা বাংলা কিউআর পুরোদমে চালু হলে ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। 

ব্যবসায়িক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নথিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আধুনিক নজরদারির মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহজনক লেনদেন সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব বলে তিনি জানান। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়