নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছুঁইছুঁই ৩০০, আক্রান্ত ১৬৩১

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ছুঁইছুঁই ৩০০, আক্রান্ত ১৬৩১

ফাইল ছবি

দেশজুড়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে নতুন করে আরও ১,৬৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৪ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে মৃত্যুর মোট সংখ্যাকে ২৯৯ জনে পৌঁছে দিয়েছে ৩০০-এর কোটা ছুঁতে এখন বাকি মাত্র ১ জন। 

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড সূত্রে এই শঙ্কাজনক পরিস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শনাক্ত হওয়া ১,৬৩১ জনসহ চলতি বছরে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭,০৮২ জনে। তবে এই ক্রমবর্ধমান সংক্রমণের মাঝেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এ পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮৯,৩৮০ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করা চারজনের মধ্যে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী রয়েছেন। 

সামগ্রিক ডেঙ্গু মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ বছর প্রাণ হারানো ২৯৯ জনের মধ্যে ৫১.৯ শতাংশ নারী এবং ৪৮.১ শতাংশ পুরুষ। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে প্রাদুর্ভাব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মে মাসের পর থেকে তা উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা গেলেও মার্চ ও এপ্রিলে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এরপর মে মাসে ১ জন এবং জুনে তা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়ায়। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যথাক্রমে ৩৬ ও ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। 

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৫ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৩৫

সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নেয় সেপ্টেম্বর মাস, যে মাসে একাই প্রাণ হারান ১৪৮ জন এবং আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৪৩,৭৭৪ জন। আর চলতি অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৭,৪৬২ জন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ৫৪ জন। বিশেষ করে গত ৬ অক্টোবর সারা দেশে এক দিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু হয়, যা এ বছরের একক কোনো দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অঞ্চলভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকা ও খুলনা বিভাগে ডেঙ্গুর তীব্রতা এবং প্রাণহানির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ বছর মৃত্যুবরণকারী ২৯৯ জনের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় সর্বোচ্চ ৮০ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ৩৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরে মারা গেছেন ১৭ জন। ঢাকার বাইরে অন্যান্য বিভাগের মধ্যে খুলনা বিভাগে সর্বোচ্চ ৬১ জন, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে ২৬ জন করে, ময়মনসিংহে ২৩ জন, রাজশাহীতে ২১ জন, রংপুরে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। 

বিগত বছরগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ লাখ ১,২১৪ জন আক্রান্ত ও ৫৭৫ জন মারা যান এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২,৮৬১ জন আক্রান্ত ও ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়। বর্তমান বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৯৭ হাজার পার হয়ে যাওয়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ডেঙ্গুর একাধিক সেরোটাইপ সক্রিয় থাকার কারণে রোগীদের ক্ষেত্রে জটিলতা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে হেমোরেজিক ডেঙ্গু বা ডেঙ্গু শক সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় রোগীদের রক্তের প্লাটিলেট আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে এবং দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, বাড়ির ভেতরে ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ এবং পরিবেশ পরিষ্কার রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জ্বর বা ডেঙ্গুর অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে কোনো অবস্থাতেই অবহেলা না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং রক্ত পরীক্ষা করে সময়মতো চিকিৎসা শুরু করার জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়