নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৩৪, ৮ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৮:০৩, ৮ অক্টোবর ২০২৬

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত

সাংবাদিকদের ব্রিফ করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধ দমনের লক্ষ্যে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে বলপ্রয়োগে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের সমন্বয়, ব্যবস্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির দ্বিতীয় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রতিনিয়ত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অপহরণ করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয়। এ ধরনের বহু ঘটনা ঘটেছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে দুটি সেনা ক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এর আগে কক্সবাজারে মাদকসংক্রান্ত একটি সভায় অংশ নেওয়ার সময়ও রঙ্গিখালীসহ দুটি এলাকায় সেনাক্যাম্প স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, সেখানে সেনাবাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ক্যাম্পগুলোর ভেতরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আনাগোনার মতো সমস্যা রয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধসহ প্রচলিত আইনের অধীনে বিভিন্ন অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঢাকার গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা এবং যানজট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য পৃথক কারাগার স্থাপনের কোনও প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রয়েছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা অপরাধীদের জন্য আলাদা কারাগার স্থাপনের কোনও উদ্যোগ আমার জানা নেই।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে সভায় আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসনের বিষয়টি দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পৃথক উচ্চপর্যায়ের কমিটি রয়েছে। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো যুক্ত রয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের সভাটি মূলত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে। প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখা হয়।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আদৌ সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অবশ্যই সম্ভব। আন্তর্জাতিক মহলের সহযোগিতায় এবং জাতিসংঘের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সম্ভব বলে আমরা বিশ্বাস করি। সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে অনেক সময় অতিবাহিত হয়েছে। সমস্যা আরও জটিল হয়েছে। আমরা আশা করি, খুব শিগগিরই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবো।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়