রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট অনুমোদন, উৎপাদন ডিসেম্বরে
ছবি: সংগৃহীত
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত শৃঙ্খল বিক্রিয়া বা ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ-বায়রা।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই অনুমোদন পাওয়ার মাধ্যমে পারমাণবিক কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট স্থির অবস্থা থেকে সক্রিয় অপারেশনাল পর্যায়ে রূপ নিল। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরের শেষভাগে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমন সেফটি ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে অনুমোদন বিলম্ব হয়।
পরবর্তীতে রাশিয়া থেকে আসা উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ দল বিভিন্ন কৌশলগত পদক্ষেপে সমস্যার সমাধান করে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়। এই সফলতার ওপর ভিত্তি করেই বায়রা ক্রিটিক্যালিটির অনুমতি দিয়েছে। এর ফলে আগামী ডিসেম্বরের শেষভাগে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনার পথ উন্মুক্ত হলো।
ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি অনুমোদনের পর রিঅ্যাক্টরে প্রথমবারের মতো একটি নিয়ন্ত্রিত ও আত্মনির্ভরশীল পারমাণবিক ফিশন শৃঙ্খল বিক্রিয়া (Chain Reaction) শুরু হবে। ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি প্রবেশ করবে পাওয়ার স্টার্ট-আপ ধাপে।
এ ধাপে রিঅ্যাক্টরের তাপীয় ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হবে। প্রাথমিকভাবে তিন শতাংশ ক্ষমতা দিয়ে শুরু করে ধাপে ধাপে তা ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এই মাত্রায় পৌঁছানোর পর টারবাইন সিনক্রোনাইজেশনের মাধ্যমে জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা সম্ভব হবে। এ প্রক্রিয়ার জন্য অপারেটিং অর্গানাইজেশনকে বায়রার কাছ থেকে আলাদাভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি সই
পাওয়ার স্টার্ট-আপ পর্যায়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ সময়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে রিয়েল-টাইম সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। সেইসঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাইরের বিভিন্ন জাতীয় গ্রাইড ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কঠোর ও প্রযুক্তিনির্ভর সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।
জাতীয় গ্রিডে রূপপুরের বিদ্যুৎ যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্ব দরবারে ৩৩তম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বাংলাদেশ। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ক্ষেত্রে এক নতুন যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা করবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








