উত্তরাঞ্চলে আমন ধান কাটা শুরু, শীতকালীন সবজি চাষের প্রস্তুতি
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
উত্তর অঞ্চলে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়েছে। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমি প্রস্তুত করছেন আগাম শীতকালীন ফসলের জন্য। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধিতে এবার আমনচাষে বিঘা প্রতি ১৮০০-২০০০ টাকা খরচ বেড়েছে। ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে।
কৃষকেরা জানান, সাধারণ আমন ধান কাটার উৎসব শুরু হয় নভেম্বরের শুরুতে। একমাস আগে আগাম জাতের আমন ধান কাটা শুরু হয়। বোরো ধান কাটার কিছু দিনের মধ্যেই জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে আগাম জাতের আমন ধান চাষ করা হয়। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করা হয়। শীতকালীন সবজি ঘরে তোলার পর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেন। এতে মঙ্গা জয়ের স্বপ্ন কৃষকের!
তারা জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন আগের মতোই রয়েছে। তবে গেল বছরের তুলনায় এবছর বিঘা প্রতি ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা উৎপাদন খরচ বেড়েছে। সার, ডিজেল ও কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি এবং শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে।
রংপুরের মহিপুর তিস্তার চর এলাকার কৃষক শফিয়ার রহমান জানান, সাধারন উঁচু জমিতে আগাম জাতের আমন চাষ করা হয়। এসব জমিতে কখনই পানি জমে থাকে না। তিনি ৫ বিঘা জমিতে আমনচাষ করেছেন। তিন বিঘা জমি থেকে ধান পেয়েছেন ৪৭ মণ। অবশিষ্ঠ দুই বিঘা জমির ধান এক সপ্তাহ পরে কাটা হবে।
তিনি জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন বিঘা প্রতি ২-৩ মণ কম হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন হয় ১৬ থেকে ১৮ মণ। এবছর প্রতি বিঘা জমিতে ধানের উৎপাদন খরচ হয়েছে ১৪ হাজার টাকা কিন্তু গেল বছর খরচ হয়েছিল ১২ হাজার টাকা। আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর আমি জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন সবজি ফুলকপি, গাজর, বেগুন ও ধনিয়াপাতা চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শীতকালীন সবজি তোলার পর খেতে বোরো ধানের চাষ করবো।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট গ্রামের কৃষক আদিলুর রহমান জানান, আগাম জাতের আমন ধানের ফলন কিছুটা কম হলেও ধান কাটার পর তারা জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন শাক-সবজি চাষ করতে পারেন। এতে তারা লাভবান হন। তিনি ৬ বিঘা জমিতে আগাম আমন ধানের চাষ করেছেন।
তিনি জানান, ৬ বিঘা জমিতে আগাম ধানচাষ করতে খরচ করেছেন ৮৭ হাজার টাকা। তবে গেল বছর একই জমিতে খরচ করেছিলেন ৭১ হাজার টাকা। আমাদের এলাকায় অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন ধান কাটা চলে। এবার ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় হতাশায় আছি, তিনি বলেন।
কালীগঞ্জের কাকিনা চর রুদ্রেশ্বর এলাকার কৃষক হোসেন আলী বলেন, তাদের এলাকায় চলতি সপ্তাহ থেকে আগাম জাতের আমন কাটা শুরু হয়েছে। অনেক কৃষকই ধান কাটা পর জমিতে আগাম জাতের শীতকালীন ফসল চাষ করেছেন। এবছর আগাম জাতের আমন ধানে তেমন রোগবালাই দেখা দেয়নি। ফলন পেয়েছি আশানুরুপ। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমন ধান চাষে লাভের অঙ্ক কমেছে। আমি ৩ বিঘা জমি থেকে ৫২ মণ ধান পেয়েছি। এখন জমিতে আগাম জাতে ফুল কপি লাগাচ্ছি।
হাতীবান্ধার চর গড্ডিমার এলাকার কৃষক রওশন আলম বলেন, “এ বছর বছর আমাদের এলাকায় কোনো বন্যা হয়নি। তাই আগাম জাতের আমনের ক্ষতি হয়নি। আমরা সাধারণত আগাম জাতের ধান লাগাই, যাতে ধান কাটার পর শীতকালীন ফসল আগাম চাষ করতে পারি। আমার চার বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। দুই-তিন দিনের মধ্যে কাটা শুরু করব।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, চলতি বছর রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে আম ধানের চাষ হয়েছে ৬ লাথ ২১ হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন লক্ষ্য্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ১ হাজার ৩৯১ টন চাল। আগাম জাতের আমন ধান চাষ হয়েছে ৩৩ হাজার হেক্টর জমিতে।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক আবু বকর সাইফুল ইসলাম বলেন,“উঁচু জমিতে লাগানো আগাম জাতের আমন ধান ইতোমধ্যে কর্তন শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মাঝামাঝি পযর্ন্ত আগাম জাতের আমন কাটা চলে। তবে নভেম্বরের শুরুতেই শুরু হবে মৌসুমের আমন ধান কাটা। এ বছর বন্যার প্রভাব কম থাকায় আগাম জাতের আমনের উৎপাদন আশানুরূপ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “কৃষকেরা আগাম জাতের আমন ধান কাটার পর তারা ভুট্টা, আলুসহ আগাম জাতের, শাকসবজিসহ নানা ধরনের শীতকালীন ফসল চাষ করেন।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








