স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:২১, ৪ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৮:২৬, ৪ অক্টোবর ২০২৬

 ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: শ্রমমন্ত্রী

 ১০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া: শ্রমমন্ত্রী

সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশিদের জন্য আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এ শ্রমবাজারে প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর আগে নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দক্ষতা নিশ্চিত করা হবে। এরপর বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী বাছাই করবেন মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতারা।

রবিবার (৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়া প্রাথমিকভাবে ১০ হাজার কর্মী নেবে। এই ১০ হাজার কর্মী দিয়েই বিনামূল্যে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর মালয়েশিয়া থেকে বিভিন্ন ধরনের চাহিদা আসার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল) এবং অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানো হবে।

কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, শুধু কর্মী পাঠালেই হবে না, মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী পাঠাতে হবে। প্রশিক্ষণ ছাড়া কর্মী পাঠানো হলে তারা দেশটিতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানির শিকার হতে পারেন। তাই মালয়েশিয়ার নিয়োগদাতাদের চাহিদা আগে নির্ধারণ করে সেই অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকার চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মী প্রস্তুত করতে চায় জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ায় যারা কর্মী নেবেন, তারা বাংলাদেশে এসে নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মী বাছাই করবেন। এরপর নির্বাচিত কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হবে।

এ প্রক্রিয়ায় বোয়েসেলের পাশাপাশি অন্যান্য অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিকেও যুক্ত করা হবে। তবে কর্মী পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো চূড়ান্ত করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী।

তবে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ার সব কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। শ্রমমন্ত্রী জানান, কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষাসংক্রান্ত প্রক্রিয়াও এখনো অনুমোদন করা হয়নি। মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে কর্মীর চাহিদা ও অন্যান্য বিষয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ও কর্মীদের হয়রানির বিষয়টি সামনে এসেছিল। এবার এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকার সতর্ক রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠানোর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

এদিকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানোর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি বছরেই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার চালু করা হবে। এ সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন ও অফলাইন দুই পদ্ধতিতে চাকরিপ্রার্থী এবং বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মীর চাহিদার একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে।

বিভিন্ন শিল্পে কর্মী ও কর্মচারীর চাহিদা নির্ধারণের পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে জব ফেয়ার এবং ক্যারিয়ার ফেয়ারের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী খুঁজে বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: গণতন্ত্র একটি সংস্কৃতি যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে ধাপে ধাপে তৈরি হয়: রাষ্ট্রপতি

এ ছাড়া চলতি মাসের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মজুরি বোর্ড গঠন করা হবে বলেও জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়