নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:২০, ৪ অক্টোবর ২০২৬

‘সাময়িক ঝড়েও মুছবে না ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘ বন্ধন’

‘সাময়িক ঝড়েও মুছবে না ভারত-বাংলাদেশের দীর্ঘ বন্ধন’

ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল এবং দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী ও ঐতিহাসিক বন্ধন কোনো ধরনের সাময়িক টানাপোড়েন বা অস্থায়ী ঝড়ে মুছে যাওয়ার নয়। 

রবিবার (০৪ অক্টোবর) রাজধানী ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংলাপ বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও বিশিষ্ট লেখক-রাজনীতিবিদ এম জে আকবর এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আদর্শিক ভিত্তি তুলে ধরে এম জে আকবর বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ উভয় রাষ্ট্রই নিছক কোনো সমসাময়িক বা কৃত্রিম ভূরাজনৈতিক সত্তা নয়, বরং এগুলো একেকটি সমৃদ্ধ সভ্যতাগত রাষ্ট্র। বিশেষ করে বাংলাদেশের পরিচয় কোনো কৃত্রিমভাবে তৈরি রাষ্ট্রের ফ্রেমে আবদ্ধ নয়; বরং হাজার বছরের ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগত শক্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি স্বতন্ত্র সভ্যতাগত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই অভিন্ন সভ্যতাগত শেকড় দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আত্মিক যোগাযোগকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্কে মাঝেমধ্যে উত্থান-পতন বা মতপার্থক্য আসা স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন এই ভারতীয় কূটনীতিবিদ। তবে এসব চ্যালেঞ্জ বা অমীমাংসিত প্রশ্ন মোকাবিলায় গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে নতুন চিন্তাভাবনা করার ওপর জোর দেন তিনি। 

আরও পড়ুন: শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া বিকল্প ছিল না: দীনেশ ত্রিবেদী

এম জে আকবর বলেন, পারস্পরিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারক ও অংশীজনদের সবসময় শুধু কী সম্ভব (What is possible) এই প্রচলিত প্রশ্নটির মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়; বরং এর পাশাপাশি কেন এটি অসম্ভব (Why is it impossible) এই মৌলিক প্রশ্নটিও জোরালোভাবে তুলতে হবে। যখন কোনো সমস্যার নেপথ্যের কারণ বা প্রতিবন্ধকতাগুলো গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে, তখনই সম্পর্কের নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত ও পথ উন্মোচিত হবে।

বর্তমান আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে সার্বভৌমত্বের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি যদি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা না হয়, তবে পুরো বিশ্ব ক্রমেই এক বিপজ্জনক ও ক্রমবর্ধমান বিশৃঙ্খলার দিকে ধাবিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সুরক্ষায় পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং সমতার নীতি মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

বর্তমান বিশ্বের যুদ্ধ, দ্বন্দ্ব ও সংঘাতের ভূরাজনীতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে এম জে আকবর ইতিহাসের গভীরে দৃষ্টিপাত করেন। 

তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাত বা যুদ্ধকে আকস্মিক বা অবৈধ বলে খারিজ করার আগে তার ঐতিহাসিক উৎস, মূল কারণ এবং ভূরাজনৈতিক পটভূমি নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। 

তার মতে, বিংশ শতাব্দী মূলত ছিল তিনটি বড় বিশ্বযুদ্ধের শতাব্দী। এমনকি সেকালের স্নায়ুযুদ্ধ বা কোল্ড ওয়ারকেও তিনি এক ধরনের বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করেন। ইউরোপের কাছে এটি স্নায়ুযুদ্ধ বা ঠান্ডা লড়াই বলে মনে হতে পারে, কিন্তু দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বা দক্ষিণ আফ্রিকার জনপদে এর প্রভাব ও ধ্বংসলীলা মোটেও ঠান্ডা ছিল না। বিশ্বযুদ্ধের সংজ্ঞা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, পুরো পৃথিবী সরাসরি কোনো সমরাস্ত্রে অংশ নিয়েছিল কি না সেটাই মূখ্য নয়; বরং বিশ্ব ব্যবস্থার ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে পরাশক্তি ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর মধ্যকার দ্বন্দ্বই এসব সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধের রূপ দিয়েছিল।

একবিংশ শতাব্দীর সংঘাতের ধরনে পরিবর্তন এসেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, বর্তমান যুগের যুদ্ধগুলোকে বিগত শতাব্দীর মতো কোনো একক বা সর্বগ্রাসী বিশ্বযুদ্ধ হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না; বরং এটি হলো বিশ্বজুড়ে চলমান এক দীর্ঘমেয়াদী ধারাবাহিক সংঘাতের রূপ। আধুনিক যুগের এসব বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব একটানা বা একযোগে চলে না, বরং এগুলো ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় ও সময়ে পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হয় যা কখনো পুরোপুরি থেমে যায় না, বরং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা জিইয়ে রাখে। 

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়