বুড়িমারী এক্সপ্রেসের বিলম্বে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
রেলসেবার মানোন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতির পরেও লালমনিরহাট জেলার চার উপজেলার সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত বিড়ম্বনা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে। বিশেষ করে বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের অনিয়মিত সময়সূচির প্রভাবে লালমনিরহাট-বুড়িমারী রুটের ৪৫৫ নম্বর লোকাল ট্রেনের চলাচলও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর ফলে উত্তরাঞ্চলের এই জনপদের মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় রেলযাত্রীদের অভিযোগ অনুযায়ী, পার্বতীপুর থেকে রংপুর ও লালমনিরহাট হয়ে বুড়িমারীমুখী ৪৫৫ নম্বর লোকাল ট্রেনটির লালমনিরহাট স্টেশন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিট। কিন্তু বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে এই লোকাল ট্রেনটিকে প্রায়শই দীর্ঘ সময় অলস বসিয়ে রাখা হয়। বুড়িমারী এক্সপ্রেস সঠিক সময়ে চলাচল করলে কোনো মতে ট্রেনটি ছাড়তে পারলেও, আন্তঃনগর এই ট্রেনটি বিলম্বিত হলেই ৪৫৫ নম্বর লোকাল ট্রেনের ছাড়ার সময় নিয়ে পুরোপুরি অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
প্রতিদিন লালমনিরহাট স্টেশন থেকে এই লোকাল ট্রেনটি কখন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে, তা যাত্রীরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। ফলে রংপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামগামী যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করতে হয়।
যাত্রীদের দাবি, বুড়িমারী এক্সপ্রেসের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি লোকাল ট্রেনের অনিয়ম তাদের দ্বিমুখী সংকটে ফেলছে। বিশেষ করে রংপুর থেকে লালমনিরহাটে পৌঁছানো যাত্রীদের অনেক সময় স্টেশনেই দেড় থেকে দুই ঘণ্টা অহেতুক সময় নষ্ট করতে হয়।
আরও পড়ুন: ট্রেনে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু, আলতা-শাখায় পরিচয় খোঁজার চেষ্টা
শুধু ৪৫৫ নম্বর লোকাল ট্রেনই নয়, করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটিকেও বিভিন্ন সময়ে শাটল হিসেবে ব্যবহার করে ইচ্ছেমতো দীর্ঘ সময় বিলম্বিত করার অভিযোগ রয়েছে লালমনিরহাট রেলওয়ে বিভাগের বিরুদ্ধে। রেলওয়ের এই ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং উদাসীনতায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ পুঞ্জীভূত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের স্পষ্ট দাবি, একটি আন্তঃনগর ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের প্রভাব কোনোভাবেই অন্য লোকাল ট্রেনের ওপর পড়তে দেওয়া উচিত নয়।
যাত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ট্রেন যদি নিয়মিত এবং নির্দিষ্ট সময়ে পরিচালনা করা সম্ভব না হয়, তবে এর সার্বিক পরিচালন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করে স্থানীয় লোকাল ট্রেনগুলোর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করা জরুরি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই জনদুর্ভোগ নিরসনে কার্যকর কোনো জবাবদিহিতা বা স্থায়ী সমাধানের দৃশ্যমান উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। অবিলম্বে ট্রেনের সময়সূচি যথাযথভাবে সমন্বয় করা, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ যাত্রীদের এই অন্তহীন দুর্ভোগ কমাতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








