নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৪:০১, ৪ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৪:১৩, ৪ অক্টোবর ২০২৬

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়কের কাজ দ্রুত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজে গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা নতুন করে পর্যালোচনা, বাস্তবায়নের পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দ্রুত দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

রবিবার (০৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক বা ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে এবং কাজের গতি বহুগুণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোথায় প্রশাসনিক, কারিগরি, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি স্থানান্তর কিংবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়সংক্রান্ত জটিলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন-পরিকল্পনাকে আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর যানজট কমানোর বৃহত্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ইনার সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ঢাকার কেন্দ্রীয় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার ওপর আন্তজেলা ও দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ কমিয়ে বিকল্প একটি চলাচল ব্যবস্থা তৈরি করা। চলমান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ গাবতলী থেকে বাবুবাজার এবং পোস্তগোলা থেকে ডেমরা পর্যন্ত বিস্তৃত। জুলাইয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ অংশের রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় নির্মাণকাজ চলমান এবং ওই অংশে প্রায় ৪৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-মাওয়া ও ঢাকা-চট্টগ্রামমুখী যানবাহনের একটি বড় অংশকে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ ব্যস্ত সড়ক এড়িয়ে চলাচলের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। এর ফলে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ঢাকায় অপ্রয়োজনীয় আন্তজেলা যান প্রবেশও কমবে।

তবে রিং রোডের পুরো পরিকল্পনাটি কেবল একটি ১২ কিলোমিটার অংশে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা এলিভেটেড ইনার সার্কুলার রিং রোডের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ২০২৪ সালে সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রস্তাবিত অ্যালাইনমেন্টের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৮ কিলোমিটার। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার এলিভেটেড সড়ক বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্ব অংশে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড সার্কুলার রিং রোড নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ রাজধানীর চারপাশে একটি সমন্বিত বৃত্তাকার সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার বৃহত্তর পরিকল্পনার সঙ্গে বর্তমানে চলমান বিভিন্ন অংশের উন্নয়নকে সমন্বয় করাই সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরে সড়কে ঝরল ৪২৩ প্রাণ

এই বৃহত্তর পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ করিডোর গাবতলী-পোস্তগোলা অংশ। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডোরের একটি অংশ আট লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হয়নি। রায়েরবাজার স্লুইসগেট থেকে কামরাঙ্গীরচরের লোহার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অংশে নির্মাণকাজ চললেও করিডোরের অন্যান্য অংশ পরিকল্পনা, সম্ভাব্যতা যাচাই, অনুমোদন, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত বিভিন্ন ধাপে আটকে থাকার কথা উঠে এসেছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও বিভিন্ন সংস্থার ইউটিলিটি স্থানান্তরও প্রকল্প বাস্তবায়নের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকা সংশ্লিষ্ট একটি অংশের সময়সীমা ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর তথ্যও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এসেছে।

এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর নতুন নির্দেশনাকে শুধু নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ হিসেবে নয়, বরং রিং রোডের বিচ্ছিন্ন অংশগুলোকে একটি সমন্বিত পরিবহন নেটওয়ার্কে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ একটি অংশ নির্মাণ শেষ হলেও সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ করিডোরগুলো অসম্পূর্ণ থাকলে কাঙ্ক্ষিত সুফল পুরোপুরি পাওয়া কঠিন। বিশেষ করে গাবতলী, বাবুবাজার, রায়েরবাজার, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পোস্তগোলা ও ডেমরা করিডোরের মধ্যে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা এবং একই সঙ্গে বিদ্যমান মহাসড়ক, সেতু ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা জরুরি।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রাজধানীর যানজট নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনায় সড়কের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের নৌপথের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। এর আগে জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ইনার সার্কুলার রিং রোডের পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের নদীপথ কার্যকরভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ফলে সড়ক ও নৌ দুই ধরনের যোগাযোগব্যবস্থাকে সমন্বিত করে রাজধানীর ভেতরের যানবাহনের চাপ কমানোর একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর মূল চ্যালেঞ্জ হলো পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে দ্রুত নিয়ে যাওয়া, সংস্থাগুলোর দায়িত্ব স্পষ্ট করা এবং বছরের পর বছর ধরে থাকা ভূমি, ইউটিলিটি, অর্থায়ন ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়