ঝালকাঠিতে বসতঘরে হামলা, লুটপাটের অভিযোগে মামলা
ছবি: নিউজবাংলাদেশ
ঝালকাঠির রাজাপুরে বসতঘরে ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও দুই নারীকে মারধরের অভিযোগে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শনিবার গভীর রাতে রাজাপুর থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার ৩ নম্বর রাজাপুর সদর ইউনিয়নের পার গোপালপুর এলাকার খলিফা বাড়ির সামনে রাস্তার পশ্চিম পাশে একটি বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। মামলার বাদী মো. ছাইদুল আলোমের অভিযোগ, জমি-জমা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা ওই বসতঘরে বেআইনিভাবে প্রবেশ করে টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে বলা হয়, ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে বাদীর বোন হাচিনা বেগমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করা হয়। তিনি হাত দিয়ে আঘাত ঠেকানোর চেষ্টা করলে তার দুই হাতের আঙুলে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়।
এ সময় হাচিনা বেগমের গলায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য প্রায় ২ লাখ টাকা, ছয় আনা ওজনের একজোড়া স্বর্ণের কানের দুল, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ টাকা এবং বসতঘরের তোষকের নিচে থাকা ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হাচিনা বেগমের চিৎকার শুনে বাদীর স্ত্রী ফাহিমা আক্তার এগিয়ে গেলে এক আসামি তাকে আটক করে রাখেন। এ সময় আরেক আসামি লোহার রড দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে গলা চেপে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাকে লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। তার কানে থাকা একজোড়া স্বর্ণের দুল, যার মূল্য প্রায় ৮৫ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
পরে দুই নারীর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা তাদের খুন-জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। খবর পেয়ে বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত দুই নারীকে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেন।
আরও পড়ুন: বুড়িমারী এক্সপ্রেসের বিলম্বে ভোগান্তিতে যাত্রীরা
এ ঘটনায় মো. ছাইদুল আলোম বাদী হয়ে মো. খাইরুল বাসার, মো. মহিউদ্দিন, মো. সোহরাফ হোসেন, আবদুস ছালাম মল্লিক, মো. ইসমাইল মল্লিক ও মোসা. মারুফা বেগমকে আসামি করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে রাজাপুর থানায় মামলা করেন।
রাজাপুর থানার ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে শনিবার গভীর রাতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মামলার কোনো আসামি গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি, চেষ্টা অব্যাহত আছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এনডি








