খেলতে বেরিয়ে নিখোঁজ, দুপুরে মিলল শিশুর মরদেহ, আটক ১
ছবি: সংগৃহীত
শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন নামের সাড়ে ৩ বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে অভিযোগ উঠেছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাসেল শিকদার (২২) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এ ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকার একটি ডোবা থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সোয়াইফ হোসেন পশ্চিম আদাসন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান। আর আটক রাসেল শিকদার একই এলাকার প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাতটার দিকে বাড়ি থেকে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করার উদ্দেশ্যে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় ধরে শিশুটি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশে এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও তার সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থানায় জানানো হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা যৌথভাবে এলাকায় তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের বসতঘরের পেছনের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
আরও পড়ুন: গাজীপুরে গার্মেন্টসে আগুন, অসুস্থ ৭০ শ্রমিক হাসপাতালে
নিহত শিশুর স্বজন ও পারিবারিক সূত্রে অভিযোগ করা হয়, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদার ও তার পরিবারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের বাকবিতণ্ডা ও ঝগড়াঝাটি হয়। রাতে সেলিমের মা তাকে বিষয়টি জানান। ওই রাতের ঝগড়া ও ক্ষোভের জের ধরেই শিশু সোয়াইফকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় অপহরণের পর হত্যা করে বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন স্বজনরা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির বাবা সেলিম সরদার বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ বিষয় নিয়ে আমার মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীদের ঝগড়া হয়। রাতে মা আমাকে বিষয়টি জানান। শনিবার সকালে আমি বাজারে গেলে ফিরে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। থানায় সাধারণ ডায়েরি করার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজনের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করে প্রতিবেশীর বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমার অবুঝ শিশুকে ওরা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তদের বাড়িতে চড়াও হয়ে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে আলী আকবরের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কয়েকজন প্রতিবেশীর নাম উল্লেখ করে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, যার মধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত অন্য আসামিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








