নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:৪০, ৬ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও যোদ্ধাদের সুরক্ষার দাবি

জুলাই অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও যোদ্ধাদের সুরক্ষার দাবি

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ষষ্ঠ বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অভ্যুত্থানের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, যোদ্ধাদের পূর্ণ সুরক্ষা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। 

মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের দ্বিতীয় লেভেলের কেবিনেট কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে ৬৩ জন শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত জুলাইযোদ্ধা অংশ নেন।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের কাছে সভার বিস্তারিত তুলে ধরেন। 

তিনি জানান, সময় ও অন্যান্য সীমাবদ্ধতার কারণে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী প্রতিনিধিত্বমূলকভাবে তাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। বৈঠকে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র ও জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নিহত ও আহতদের বিষয়ে রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন।

জুলাই যোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা এবং দায়মুক্তি প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি স্পষ্ট করেন যে, তাদের সুরক্ষার জন্য ইতিমধ্যে যে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, তা অধ্যাদেশ থেকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে এবং এর পূর্ণ বৈধতা রয়েছে। তবে জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও দায়মুক্তি স্থায়ী এবং সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করার জন্য সংবিধানের নির্দিষ্ট তফসিলে তা সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা বা হয়রানি থেকে তাদের শতভাগ সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নারীদের অসামান্য ও সাহসী অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষভাবে স্মরণ করা হয় এবং রাজনীতিতে তাদের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন সংস্কার এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনরায় সংবিধানে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উঠে আসে। 

আরও পড়ুন: ডিসেম্বরে অস্থিরতা নয়, কঠোর হাতে দমন করা হবে অপরাধ

বিশেষ করে, সংবিধানের কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিধান পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সরাসরি মতামত নিতে সাংবিধানিক গণভোট-এর বিধান পুনরায় চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে জনগণের মতামত ছাড়া কেউ গুরুত্বপূর্ণ বিধান সহজে পরিবর্তন করতে না পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা এমনভাবে সংবিধানে প্রতিস্থাপন করার পরিকল্পনা চলছে এবং এই বিষয়ে বিরোধী দলসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রস্তাব পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়, তবে রাষ্টপতি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হতে পারবেন না মর্মে কমিটির প্রাথমিক মতামত রয়েছে।

বৈঠকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার প্রসঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা শেখ হাসিনাসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যা ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান। 

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে অত্যন্ত আন্তরিক। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান মামলাগুলোর বিচার প্রক্রিয়া স্বাধীনভাবে চলছে এবং আদালত নির্ধারিত আইন অনুযায়ী কাজ করছে। সরকার তদন্ত, প্রসিকিউশন ও চার্জশিটসহ নিজেদের কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করছে। পাশাপাশি, দণ্ডবিধির অধীনে অন্যান্য আদালতে হওয়া মামলার বিষয়গুলোও সরকার গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা দ্রুত শেষ করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি চলছে।

সংবিধান সংশোধনের দাবিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক পক্ষের লংমার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন যে, লংমার্চ করা যেকোনো নাগরিক বা দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। 

তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, কেবল লংমার্চ বা রাজপথের অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের সংবিধান সংশোধন করা সম্ভব নয়। সংবিধান সংশোধন করতে হলে প্রচলিত সংসদীয় বিধি ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আবশ্যিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সংসদ সদস্য শাকিলা ফারজানা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে অংশ নেন। 

কমিটি জানিয়েছে, আমন্ত্রিত অতিথিদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত প্রস্তাবগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের পাশাপাশি এর বাইরেও যদি কারও কোনো লিখিত প্রস্তাব থাকে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিটির কাছে জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়