‘ডিসেম্বরে অস্থিরতা নয়, কঠোর হাতে দমন করা হবে অপরাধ’
ছবি: সংগৃহীত
দেশে যৌথভাবে বিশেষ কোনো বাহিনী গঠনের আনুষ্ঠানিক বা পৃথক কোনো সিদ্ধান্ত না থাকলেও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক দমনে প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে তিনি দৃঢ় কন্ঠে উচ্চারণ করেছেন যে, ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস এবং এই মাসে কোনো অপশক্তি দেশে কোনো ধরনের অস্থিরতা বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে পারবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষিত সুপরিকল্পিত ও উপযুক্ত স্থানে নিজস্ব সদর দপ্তর স্থাপনের স্বপ্ন আজ বাস্তবায়নের পথে। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনসার বাহিনীর সদর দপ্তর নির্মাণের জন্য ৩ দশমিক ৪৫ একর তথা প্রায় ১১ বিঘা জমি বরাদ্দ পাওয়া গেছে। বর্তমানে খিলগাঁও থেকে আনসার সদর দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হলেও অপরিসর স্থানসংকুলান ও যাতায়াত ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দূর করতে তেজগাঁওয়ে আধুনিক ও বৃহৎ অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার ব্যাটালিয়ন আনসার এবং ৬০ হাজার অঙ্গীভূত আনসার সদস্য রয়েছেন। এর বাইরে ৩৫ হাজার ভিডিপি দলনেতার অধীনে প্রায় ৬০ লাখ প্রশিক্ষিত জনশক্তি কাজ করছে, যা নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে দেশের সর্ববৃহৎ একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। কেন্দ্রীয়ভাবে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের আবাসন সংকট নিরসনে তেজগাঁওয়ে আধুনিক ডরমিটরি ও ব্যারাক নির্মাণ করা হবে।
এ ছাড়া ঢাকার আশুলিয়া ও শেরেবাংলা নগরেও তাদের জন্য অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানসহ দেশের যেকোনো জাতীয় সংকট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আনসার বাহিনীর অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বাহিনীর সদস্যদের আর্থিক ও অন্যান্য পর্যায়ক্রমিক দাবি পূরণের বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আরও পড়ুন: পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের নাম বদলে এখন স্পেশাল রেসপন্স ইউনিট
ডিসেম্বর মাস ঘিরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের অস্থিরতা সৃষ্টির গুঞ্জন সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা ডিসেম্বর-ডিসেম্বর করছেন কেন? ডিসেম্বর তো আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে কোনো অপশক্তি এখানে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি না।
সারাদেশে আলাদা কোনো যৌথবাহিনী বা অতীতের অপারেশন ক্লিন হার্ট-এর মতো বিশেষ কোনো অভিযান গঠনের পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে তিনি জানান, পুলিশ, বিজিবি, র্যাব ও আনসারসহ অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসমূহকে নিয়ে নিয়মিত ও সমন্বিত অপারেশন পরিচালনার প্রক্রিয়া সবসময়ই চালু রয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং মাদকের মতো গুরুতর অপরাধ নির্মূলে এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কেউ দায়িত্ব পালনে অবহেলা কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদের বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হচ্ছে না উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হচ্ছে।
রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে ঢাকার ট্রাফিক সিস্টেমে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও সড়ক বিভাগের সমন্বিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর ফলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মামলা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে।
সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে রাস্তা খনন ও নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে কড়া নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন থেকে পুরো রাস্তা একসঙ্গে না কেটে খণ্ড খণ্ড অংশে কাজ শেষ করে দ্রুত পুনর্নির্মাণ সম্পন্ন করার পরই কেবল নতুন অংশে হাত দিতে হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








