পাকিস্তানের কাছে হেরে বাংলাদেশের স্বর্ণ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ
ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে জাপানের আইচি-নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে মাঠে গড়ায় এশিয়ান গেমস পুরুষ ক্রিকেটের প্রথম সেমিফাইনাল। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে পাকিস্তানের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ব্যাটারদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিং ও বোলারদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে স্বর্ণ জয়ের স্বপ্ন শেষ হয়েছে টাইগারদের।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানি বোলারদের আক্রমণের মুখে পড়ে মাত্র ২১ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটারকে হারিয়ে বসে দল। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৭ রান করে মিড-অফে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর মাত্র তিন বল খেলে অধিনায়ক লিটন দাস (২) সাইম আইয়ুবের বলে রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বোল্ড হন। স্লগ সুইপ করতে গিয়ে মাত্র ১ রান করে সাজঘরে ফেরেন পারভেজ হোসেন ইমনও।
টপ অর্ডারের করুণ দশার পর একপ্রান্ত আগলে ধরে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেওয়ার চেষ্টা করেন মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহিদ হৃদয়। ষষ্ঠ ওভারে সাইফ হাসানকে সঙ্গে নিয়ে জুটি গড়ার ইঙ্গিত দিলেও সাইফ ১৯ রান করে সুফিয়ান মুকিমের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা আগ্রাসী ভঙ্গিতে রান বাড়াতে থাকেন হৃদয়। ৪টি ছক্কার সাহায্যে ২৫ বলে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৫ রানের নান্দনিক এক ইনিংস খেলেন তিনি। দলীয় রান একশ পার হওয়ার পর সীমানায় ক্যাচ দিয়ে তিনি আউট হন। শেষ দিকে শেখ মেহেদী হাসানের কার্যকরী দুটি চারের সুবাদে নির্ধারিত ১৩ ওভারে ৭ উইকেটে ১১১ রানের মাঝারি সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন: আইএলটি-টোয়েন্টির নিলামে ৪ বাংলাদেশি, শীর্ষে তাসকিন
১১২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরুতেই পাকিস্তানকে ভালোমতোই চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশ। দলীয় ইনিংসের শুরুতেই পাকিস্তানের অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহানকে সাজঘরে পাঠান মেহেদী হাসান। এরপর নাসুম আহমেদও দ্রুত আরও একটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের লড়াই জমিয়ে তোলেন। সাইম আইয়ুব ও উসমান খানের মতো ব্যাটারদের ফিরিয়ে দিয়ে একপর্যায়ে দারুণভাবে ম্যাচে ফেরার আভাস দিয়েছিল টাইগার বোলাররা।
তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের করা ইনিংসের দশম ওভারটি ম্যাচের পুরো চিত্র বদলে দেয়। ওই ওভারে পাকিস্তানি ব্যাটারদের সামনে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েন মোস্তাফিজ; একটি ছক্কা এবং টানা চার বলে চারটি বাউন্ডারি সহ ওই এক ওভারেই তিনি খরচ করেন বড় অংকের রান। এই একটিমাত্র ওভারই ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় বাংলাদেশকে।
মোস্তাফিজের ওই ব্যয়বহুল ওভারের পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজেদের মুঠোয় নিয়ে নেয় পাকিস্তান। আব্দুল সামাদ ও হাসান নাওয়াজের আক্রমণাত্মক ও ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত কোনো প্রকারের বিপাকে না পড়ে ৯ বল হাতে রেখেই ৬ উইकेটের সহজ জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান। পাকিস্তানের পক্ষে আব্দুল সামাদ ১৫ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩০ রান এবং হাসান নাওয়াজ ২২ বলে ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ২৭ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে সরাসরি স্বর্ণপদক নির্ধারণী ম্যাচের ( ফাইনাল) টিকিটে পৌঁছে দেন।
এই পরাজয়ের ফলে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ইভেন্ট থেকে হতাশা নিয়ে বিদায় নিতে হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








