আসাদুল হক খোকন || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১০:০৩, ১ অক্টোবর ২০২৬

বনলতার কবি, জীবনের ব্যর্থ নাবিক

বনলতার কবি, জীবনের ব্যর্থ নাবিক

ফাইল ছবি

প্রায় সকলের প্রিয় এবং সাহিত্যবোদ্ধাদের বিচারে তার কবিতা বাংলা সাহিত্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তিনির্ভর যুগেও জীবনানন্দের কবিতা প্রায় অতীতের মতো সমান জনপ্রিয়। অনেকের মতে কবি হিসেবে তিনি এতটাই জনমনে আসন গেড়ে আছেন যে, যে কেউ তার কবিতার দূটো পঙক্তি শুনিয়ে দিতে পারেন- চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা/মুখ তার শ্রাবন্তীর কারুকার্য; অতি দূর সমুদ্রের পর// অথবা হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে, বলেছে সে, এতদিন কোথায় ছিলেন?/পাখির নীড়ের মতাে চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।// কিংবা তার যে কোনো কবিতার দুটো পঙক্তি শুনেই অনেকে বলে দিতে পারেন এটি জীবনানন্দের কবিতা।

তো কবি হিসেবে জীবনানন্দের তুলনা শুধু জীবনানন্দই। কিন্তু এ কথা সত্য যে জীবনবোদ্ধাদের বিচারে ব্যক্তি জীবনানন্দ একজন পরিপূর্ণ ব্যর্থ মানুষ! উচ্চ শিক্ষিত একজন মানুষ যিনি ঠিক মতো কথা বলতে পারেন না, মাঝে মাঝেই চাকরি থাকে না, কলেজে ভালো করে পড়াতে পারেন না, ক্লাসে তাকে নিয়ে ছাত্ররা হাসাহাসি করে, স্ত্রী তাকে মূল্যায়ন করে না, চিঠি লিখলে লেখকরা তার চিঠির উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না, পত্রিকার সম্পাদকরা তার স্থীর বিষন্নতামগ্ন স্বভাবের জন্য তাকে আড়ালে গন্ডার বলে ডাকেন। যিনি এতটাই কবিতামগ্ন হয়ে থাকতেন যে একদিন ট্রেন লাইন দিয়ে হেটে যেতে থাকলে কখন ট্রেন এসে তার দেহের ওপর দিয়ে চলে গেছে তিনি হয়তো তা ভাববারও ফুরসত পাননি...! 

আরও পড়ুন: আমার বাবা

কবিতার অন্ধকার, অমানিশা তাকে এতটাই মোহাচ্ছন্ন করে রেখেছিল যে তার কবিতায় ঘুরে ফিরে বারবার স্থান পেয়েছে- অন্ধকার, অমানিশা, নিশা, নিশীথ, ধূসর, বিম্বিসা, সন্ধ্যা, জোনাকি, নিভে গেলে, ফুরায়, জীবনের লেনদেন ইত্যাদি। যা মূলত 'অন্ধকারেরই' প্রতীক নির্দেশ করে। এবং তিনি দিনশেষে কবি জীবনের হিসাব মিলাতে ব্যর্থতার দায় নিয়ে আফসোস করেন- হায় চিল! সোনালি ডানার চিল...

এমন একজন মানুষের নাম- জীবনানন্দ দাশ। যিনি কবি হিসেবে অসাধারণ, অতুলনীয়, যার ভাবনার জগত অন্য সবার থেকে আলাদা এমনকি অন্য প্রায় সকল কবির কাছে ঈর্ষনীয়। কিন্তু তার ব্যক্তি জীবন সাধারণ, নমনীয়, অসামাজিক, বন্ধুহীন একাকিত্ব ঘেরা, যাকে তার স্ত্রীসহ পরিবার- স্বজনের কেউই ভালোবাসে না, সর্বপরি ব্যক্তি জীবনে যিনি একজন চরম অসফল মানুষ। এমন জীবনানন্দের ব্যক্তি জীবনকে কেউই ভালোবাসে না, কেউই নিজের যাপিত জীবনে এমন অসফল, তুচ্ছতাচ্ছিল্যের জীবন, প্রায় নিঃসঙ্গতার জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখতে চান না। যদিও এদের সকলেই ঠিকঠাক ভালোবেসে চলেছেন জীবনানন্দের বনলতা সেন কিংবা রূপসী বাংলাকে যুগের পর যুগ ধরে!

এর নাম বাস্তবতা! কবিতার জগতে যার কোনোই মূল্য নেই!

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়