নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:০৮, ১ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১৩:২৪, ১ অক্টোবর ২০২৬

উৎপাদনের পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

উৎপাদনের পথে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কারিগরি জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে এক বড় মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। চুল্লির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি) বা সেফটি ভালভের উচ্চচাপ পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং প্রক্রিয়া এবং গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সুগম হলো। একইসঙ্গে প্রকল্পটির দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান দেশে এসে পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে।

এর আগে গত সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল কারিগরি ত্রুটি। পরীক্ষা চলাকালীন তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে চুল্লির টারবাইন ও প্রেশার কন্ট্রোলের সঙ্গে যুক্ত সেফটি ভালভটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। ফলে চুল্লির সফল ট্রায়াল ও জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ধারিত পরিকল্পনা কিছুটা পিছিয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও সে সময় উৎপাদনে যাওয়ার সময় পেছানোর কথা নিশ্চিত করেছিলেন।

এই ত্রুটি নিরসনে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক করপোরেশন রোসাটমের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ শুরু হয়। সমস্যা সমাধানে গত ২২ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ প্রকৌশলী দল রূপপুর প্রকল্পে এসে যোগ দেয়। বাংলাদেশি ও রুশ বিশেষজ্ঞদের যৌথ এবং নিবিড় প্রচেষ্টায় ত্রুটি সফলভাবে সমাধান করা হয়।

আরও পড়ুন: রূপপুরের দ্বিতীয় ইউনিটের ইউরেনিয়াম সরবরাহ শুরু অক্টোবরে

রোসাটমের সূত্র এবং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এই উচ্চচাপ পরীক্ষা বুধবার রাতে ১৬ মেগাপাসকেল চাপে সফলভাবে শেষ হয়। ১৬ মেগাপাসকেল চাপ বলতে প্রায় ১৫৮ গুণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপকে বোঝায়। এই পরীক্ষাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ—উভয় স্থান থেকেই যৌথভাবে পরিচালনা করা হয়। পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ ভালভগুলোর কার্যকারিতা, অ্যালার্ম বা সতর্কসংকেত, প্রতিক্রিয়া এবং ভালভের খোলা ও বন্ধ হওয়ার সামগ্রিক প্রক্রিয়া পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। নির্ধারিত পরমাণু সুরক্ষা শর্ত ও অনুমোদিত আন্তর্জাতিক পদ্ধতি মেনেই এই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই সেফটি ভালভ বা পিওআরভি-র কার্যকারিতা সরাসরি সম্পর্কিত। প্রথম ধাপে ১৬ মেগাপাসকেল চাপে সফলতা অর্জনের পর, কমিশনিং দল এখন পরবর্তী ধাপের দিকে এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে পরবর্তী দফার উচ্চচাপ পরীক্ষা পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিটি ধাপের ফলাফল নিবিড়ভাবে যাচাই ও বিশ্লেষণ করেই চূড়ান্ত ধাপে পা বাড়াচ্ছেন দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীরা। ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের এই নিরাপত্তা পরীক্ষা চূড়ান্তভাবে শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয় ইউনিটের মূল পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রথম ইউনিটের কারিগরি অগ্রগতির পাশাপাশি রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটেও এসেছে বড় সুখবর। আজ বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য নির্ধারিত পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রোসাটমের পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে বিভিন্ন চালানের মাধ্যমে দ্বিতীয় ইউনিটের সম্পূর্ণ জ্বালানি নিরাপদে বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে।

সব মিলিয়ে, সেফটি ভালভের সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিট চালুর দীর্ঘমেকানিকাল অনিশ্চয়তা কেটে গেছে। কারিগরি সব বাধা পেরিয়ে নির্ধারিত নিরাপত্তা ও মানদণ্ড বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়েই দেশের এই সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে চলেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি/এনডি 

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়