স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১২:২৩, ৫ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ১২:২৫, ৫ অক্টোবর ২০২৬

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, গণপরিবহন, সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য নিরাপদ পরিবেশও সরাসরি সম্পৃক্ত।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের তুলনায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবুও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে হবে। নাগরিকদের জন্য শুধু একটি বাসস্থান নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়, সেটিকে নিরাপদ ও টেকসই করাও সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের শহর-বন্দর ও নগরগুলোতে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে। রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শহরাঞ্চলে স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি মানুষের বসবাস। এমন বাস্তবতায় সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরগুলোতে সবার জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা যতটা সহজ, দেশের বিদ্যমান বাস্তবতায় তা বাস্তবায়ন করা ততটাই কঠিন। এ কারণে সর্বজনীন বাসস্থান ও টেকসই নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সবার জন্য বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও নিরাপদ আবাসন এবং মৌলিক সেবা-পরিষেবা নিশ্চিত করা নাগরিকদের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সরকারপ্রধান বলেন, পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একই সঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থানের সুযোগ সৃষ্টি বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনি অঙ্গীকার।

গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য দেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন সহজ হবে।

শহরাঞ্চলে জনসংখ্যার চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো সম্ভব হবে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতোমধ্যে শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের পরিবর্তে দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয়; বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সুরক্ষাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলা এবং বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে সরকার দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত: রাষ্ট্রপতি

নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কঠিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক ও খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান দেশের নাগরিকদের জন্য একটি বাস্তবতায় পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়