ইরানি হুমকিতে ব্রিটেন ছাড়ল মার্কিন বোমারু বিমান
ছবি: সংগৃহীত
ইরান সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির জেরে যুক্তরাজ্যের গ্লুচেস্টারশায়ারে অবস্থিত কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ রয়্যাল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে তাদের ভারী বি-১ বোমারু বিমানগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো বিভিন্ন সামরিক অভিযানে এই ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর প্রধান ট্রানজিট ও অপারেশনাল হাব হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিমানঘাঁটিটিতে সম্ভাব্য হামলার বা নাশকতার নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেব্রাস্কার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, আমাদের কাছে এমন আভাস ছিল যে সেখানে নির্দিষ্ট কোনো হুমকি থাকতে পারে। তাই আমরা ঝুঁকি না নিয়ে বিমানগুলো সরিয়ে নিয়েছি। এতে খরচ খুবই কম হয়েছে, কিন্তু সম্ভাব্য বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেন, তেহরান বিগত প্রায় পাঁচ দশক ধরে মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে আসছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতেও তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করছে বলে ওয়াশিংটনের জোরালো ধারণা রয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিছুটা ভিন্ন সুরে দাবি করেছেন যে, বিমানগুলো হঠাৎ সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সুনির্দিষ্ট কোনো ইরানি ষড়যন্ত্রের সরাসরি যোগসূত্র না-ও থাকতে পারে। পেন্টাগন প্রয়োজন ও কৌশলগত রুটিন অনুযায়ী বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পুনর্বিন্যাস করে থাকে এটি তারই একটি অংশ।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, এই সামরিক সরঞ্জামের সুরক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপগুলোর পেছনে কোনো না কোনো বিদেশি পক্ষের, বিশেষ করে ইরানের মদদ থাকার জোরালো ইঙ্গিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: রিয়াদে আরামকোর তেল স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ও গোয়েন্দা সূত্রগুলোর তথ্যমতে, ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির কাছাকাছি সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সম্ভাব্য নাশকতার ছক কষার অভিযোগে সম্প্রতি পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঘাঁটির নিকটবর্তী এলাকা থেকে পাঁচ ব্রিটিশ নাগরিককে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে আটক করা হয়। পরবর্তীতে একজন ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগে গ্রেফতার করে দেশটির সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ। যদিও আটককৃতদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে এই ঘটনা পুরো ইউরোপজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিপরীতে, তেহরান এই হামলার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্ররা ভুল পথে এগোচ্ছে এবং এ ধরনের অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তবে জুলাই মাসে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিল যে, ইরানের ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ব্যবহৃত যেকোনো বিদেশি ঘাঁটি তাদের বাহিনীর জন্য বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, আরএএফ ফেয়ারফোর্ড থেকে বি-১ ও বি-৫২ এর মতো ভারী বোমারু বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়ার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আকস্মিক বা দ্রুত বড় ধরনের বিমান হামলা চালানোর মার্কিন সামরিক সক্ষমতা সাময়িকভাবে কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। যুক্তরাজ্য সরকার এই ঘাঁটিটি কেবল নির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষামূলক ও সীমিত অভিযানের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ায় এর কৌশলগত পরিসর এমনিতেই কিছুটা সীমাবদ্ধ ছিল।
বর্তমানে এই বোমারু বিমানগুলোকে ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি কিংবা উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য কোনো নিরাপদ সামরিক স্থাপনায় স্থানান্তরিত করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে চলমান এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে মার্কিন বোমারু বিমান প্রত্যাহারের ঘটনাটি ন্যাটো ও মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








