ভূমিকম্প মোকাবিলায় পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি পর্যালোচনার নির্দেশ সংসদীয় কমিটির
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহরে সম্ভাব্য ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যমান প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেছে জাতীয় সংসদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও সুপারিশমালা গৃহীত হয়।
সংসদ সচিবালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্যবৃন্দ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, এস এ জিন্নাহ কবীর, নাদিয়া পাঠান পাপন, মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মুহাম্মদ আলী আছগার। এছাড়া বৈঠকে মন্ত্রণালয় ও এর অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং সচিব পদমর্যাদার ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর নতুন কমিটির সদস্য ও মন্ত্রণালয় কর্মকর্তাদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর একটি বিশদ প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে সরকারের বিগত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ের নেওয়া নানা কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বার্ষিক অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য প্রধান শহরগুলোতে ভূমিকম্প এবং অন্যান্য বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কাঠামোগত প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে।
আরও পড়ুন: ভূমিকম্প মোকাবিলায় ৪১ পয়েন্টে সরঞ্জাম, প্রস্তুত ১০০ স্টেশন
সাম্প্রতিক সময়ে ভূমিকম্প ও নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় কমিটি দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে আগাম বার্তা বা আর্লি ওয়ার্নিং পৌঁছানোর কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর বিশেষ তাগিদ দিয়েছে। এছাড়া মাঠপর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা ও উদ্ধার কার্যক্রম আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে জেলাভিত্তিক আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর হালনাগাদ তালিকা এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রস্তুতকৃত এই তালিকাগুলো পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপন করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় সংসদ সদস্যদের নিকট প্রেরণেরও স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় ত্রাণ বিতরণ ও বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সরকারি যেকোনো সাহায্য-সহযোগিতা ও ত্রাণ বরাদ্দ যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সরাসরি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া নির্মাণকাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তাদের নিবিড় ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
পাশাপাশি, দুর্যোগকালীন সাধারণ মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য নির্ধারিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারোপযোগী অবস্থায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সভার শুরুতে কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম তার স্বাগত বক্তব্যে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন দেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি মরহুম জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের; পাশাপাশি তিনি তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলনে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শহিদ হওয়া ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয় এবং আন্দোলনে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








