স্টাফ রিপোর্টার || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৩:২০, ৫ অক্টোবর ২০২৬

নিউগিনি আবাসনে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ গ্রেফতার

নিউগিনি আবাসনে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর ইসিবি চত্বরে নিউ গিনি প্রপার্টি আবাসন প্রকল্পে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বিকাশ চন্দ্র সরকারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। 
সোমবার (৫ অক্টোবর) গভীর রাতে মাগুরা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হামলার আগে আবাসন প্রকল্পটির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন ভূঁইয়া, সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ জমির মালিকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছিলেন বিকাশ। সমঝোতা না হওয়ায় মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের মাধ্যমে হামলার জন্য সন্ত্রাসী ভাড়া করার ব্যবস্থা করেন তিনি।

এদিকে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ছয় আসামিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কারাগার থেকে মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। রবিবারতাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মামলার প্রধান আসামি শাহরিয়ার মাহমুদ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নেতা শাহ আলম অনিক, কুষ্টিয়া-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুর গফুরের জামাতা মিজানুর রহমান, ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা মো. মামুন, মো. মুন্না ও অটোরিকশাচালক আসলাম।

ডিবির গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আ ফ ম আনোয়ার হোসেন খান বলেন, ছয় আসামিকে ডিবি কার্যালয়ে এনে হামলার ঘটনায় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

এদিকে, তিন দিনের রিমান্ড শেষে মামলার চার নম্বর আসামি মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে সোমবার আদালতে হাজির করে ডিবি। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

পুলিশ জানায়, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ১১টার দিকে নিউ গিনি আবাসন প্রকল্প ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে সশস্ত্র হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে।

তদন্তে জানা গেছে, হামলার সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন গ্রেফতার হওয়া সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক শাহরিয়ার মাহমুদ। হামলার প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা আগে ইসিবি চত্বর এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় শাহরিয়ার মাহমুদ, মামলার দ্বিতীয় আসামি ক্যান্টনমেন্ট থানা জামায়াতে ইসলামীর রুকন আবুল কাশেমসহ ১৪ জন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের ছবি তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের হাতে এসেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, বৈঠকের ছবিতে বিকাশ কুমার নামে এক ঠিকাদারকেও শনাক্ত করা হয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত আরও কয়েকজনকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করে। সেখানে অন্তত ৫০টি গুলি ছোড়া হয়। এতে নির্মাণশ্রমিক, নিরাপত্তাকর্মী ও আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় অনেক তরুণকে অংশ নিতে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

ঘটনার পর গ্রেফতার হওয়া কয়েকজন ভাসানটেক বস্তির বাসিন্দা ও অটোরিকশাচালক। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তাদের ভাড়া করে হামলায় অংশ নেওয়ানো হয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বৃহত্তর মিরপুরের কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সরবরাহ করে থাকতে পারে। তবে এখনো আগ্নেয়াস্ত্রগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়