নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:২৪, ৭ অক্টোবর ২০২৬

‘সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

‘সমান অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য’

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার, মর্যাদা এবং সামগ্রিক কল্যাণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন যে, এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য, যেখানে কোনো ধরনের ধর্মীয় পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান মানুষের মৌলিক অধিকার ও সুযোগ লাভের পথে ন্যূনতম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

বুধবার (০৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। 

তারা জানান, সরকারের এই সুদূরপ্রসারী ও সময়োপযোগী পদক্ষেপে দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের মাঝে উৎসবের আনন্দ ও উদ্দীপনা বহুগুণ বেড়ে গেছে। উল্লেখ্য, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকার আগামী ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের দীর্ঘ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, যা দেশের পূজা উদ্‌যাপনকে আরও স্বস্তিদায়ক ও উৎসবমুখর করে তুলবে।

মতবিনিময়কালে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা, নানামুখী প্রয়োজন এবং গুরুত্বপূর্ণ দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সামনে সবিস্তারে তুলে ধরেন। 

প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং তাদের আশ্বস্ত করে জানান যে, বর্তমান প্রশাসন রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভেতর থেকে প্রতিটি সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

আরও পড়ুন: একনেকে ১৬,২০৭ কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সময় বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, আমরা সর্বোচ্চটুকু করার চেষ্টা করব। আপনাদের প্রতিটি যৌক্তিক দাবি এবং সমস্যা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সভা চলাকালীন হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে সসম্মানে দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।

সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা এবং বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কঠিন চীবর দান উপলক্ষে দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। এ সময় দুই সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে শারদীয় দুর্গাপূজা ও কঠিন চীবর দান উৎসব সুন্দর ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়। 

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুর্গাপূজার জন্য হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ৪ কোটি টাকা অনুদান চাওয়া হলেও, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বৃদ্ধি করে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন। একইভাবে, বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের জন্য বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ২ কোটি টাকা অনুদান চাইলেও, প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় তা বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করেন।

সরকার নির্ধারিত এই বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে দেওয়া হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সরকারি অনুদানের এই পরিমাণ বৃদ্ধি করায় প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে পুনরায় ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের উদার মনোভাবের প্রশংসা করেন।

উচ্চপর্যায়ের এই মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, কালবেলার সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়