‘পরিবহন খাত ঘিরে চলা মাফিয়াবৃত্তির অবসান ঘটাবে নতুন কমিটি’
ছবি: সংগৃহীত
সড়ক পরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি এবং সিন্ডিকেটভিত্তিক মাফিয়াতন্ত্রের অবসান ঘটাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সদ্য গঠিত নতুন কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, নতুন নেতৃত্ব ও আধুনিক ভাবনার সমন্বয়ে পরিবহন খাতকে সম্পূর্ণ ঢেলে সাজানো হবে।
বৃহস্পতিবার (০৮ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নবগঠিত কমিটির সভাপতি নাজিম উদ্দিন আলম ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমসহ সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মাজার প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দেশের পরিবহন খাতের বর্তমান বেহাল দশা ও অরাজক পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা।
আরও পড়ুন: দেশের প্রশ্নে আত্মসমর্পণ করবে না জাতীয়তাবাদী শক্তি: রিজভী
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল ও সিন্ডিকেট এই খাতটিকে জিম্মি করে রেখেছিল। পরিবহন খাতকে ঘিরে গড়ে ওঠা কথিত মাফিয়াভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ও বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে পদে পদে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন শ্রমিকদের। এই নৈরাজ্য থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবহন খাতকে আইনসম্মত ও জনবান্ধব করা এখন সময়ের দাবি।
শ্রমিকদের অধিকার ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, চাঁদাবাজি ও বেআইনি কর্মকাণ্ডের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক শ্রমিক এবং সাধারণ যাত্রীরা। তাই নতুন কমিটিকে কেবল চাঁদাবাজি প্রতিরোধেই কঠোর হতে হবে না, একইসঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, পেশাগত মর্যাদা এবং জীবনের নিরাপত্তা রক্ষায় সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে হবে। সাধারণ যাত্রীরা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন এবং যাতায়াতে নিরাপদ ও উন্নত সেবা পান, সেদিকেও নতুন নেতৃত্ব বিশেষ নজর দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি সততা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করেন, তবে যেকোনো রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা রোধ করা সম্ভব।
বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও জনদুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিদের কাঁধে দায়িত্ব অর্পিত হলে দেশের দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটে একটি গণতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরে আসবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








