দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতা আটক
ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলটির একাধিক সংসদ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।
একই দিনে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে ও তার সহযোগীদের পাশাপাশি ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও আটক করার খবর পাওয়া গেছে।
রাজধানীর যন্তর মন্তরে সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচি ঠেকাতে নিরাপত্তা জোরদার, বিভিন্ন এলাকায় ব্যারিকেড, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে শুক্রবার রাত থেকেই রাজধানীতে নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়। শনিবার সকালে বিভিন্ন স্থান থেকে আন্দোলনকারীদের আটক করে পুলিশ। বিরোধী রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীরা এ ঘটনাকে প্রতিবাদের অধিকার সংকুচিত করার পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে, পুলিশ কর্মসূচির অনুমতি না থাকা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছে।
শনিবার সকালে দিল্লির সাউথ অ্যাভিনিউ এলাকায় সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের সামনে থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটক করা হয়।
তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মমতার সঙ্গে দলটির সংসদ সদস্য দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ওব্রায়েন, সামিরুল ইসলাম ও সাকেত গোখলেকেও আটক করা হয়েছে। তাদের একটি প্রিজন ভ্যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। আটকের পর তাদের কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে সিজেপির বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বের হওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি দিল্লির ১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে বের হতে চাইলে পুলিশ তাকে বাধা দেয়। পরে তিনি দলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাসভবনের সামনের সড়ক ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নেন। পুলিশ তাদের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে সরে যেতে বললেও তারা সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। এরপর তাদের আটক করা হয়।
আটকের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মমতা বলেন, তরুণদের আমন্ত্রণে তারা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সিজেপির নেতাকর্মীদের আটক করা হয়েছে এবং অনেককে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন। ছাত্র ও যুবসমাজের পাশে থাকার কথাও জানান তৃণমূল নেত্রী।
পুলিশি পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের আটক করে বাসে তুলে দীর্ঘ সময় ধরে শহরের বিভিন্ন সড়কে ঘোরানো হচ্ছে। কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের ক্ষেত্রেও একই ধরনের আচরণ করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাসভবন থেকে বের হতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। দলীয় নেতাদের দাবি, বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে না পেরে তারা বাসভবনের সামনের সড়কে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যম টিভি৯ জানিয়েছে, বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে। তবে আটক-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং তাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মমতাকে আটকের ঘটনাটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি। সিজেপি শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় যন্তর মন্তরে সেভ ডেমোক্রেসি শীর্ষক বিক্ষোভের ডাক দেয়।
দলটির অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে দলটি।
বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করা এবং আগের কিছু কর্মসূচিতে শর্ত ভঙ্গের অভিযোগকে অনুমতি না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে পুলিশ। প্রশাসনের বক্তব্য, রাজধানীতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। তবে সিজেপি নেতারা পুলিশের সিদ্ধান্ত মেনে নেননি।
আরও পড়ুন: বিমান থেকে অভিজিৎসহ তেলাপোকা পার্টির শীর্ষ ৩ নেতা আটক
তাদের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানো নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং অনুমতি না পেলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।
কর্মসূচিতে যোগ দিতে মুম্বাই থেকে দিল্লি আসেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তার সহযোগী সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার সকালে তাদের উড়োজাহাজ দিল্লিতে অবতরণের পর পুলিশ বিমানের ভেতরে প্রবেশ করে তাদের আটক করে। অভিজিৎ দীপকে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ঘটনার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওতে পুলিশ সদস্যদের বিমানের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তবে তাদের আটকের আনুষ্ঠানিক আইনি ভিত্তি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিজিৎ দীপকে এর আগে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার সমালোচনা করেছিলেন।
তার অভিযোগ, বিক্ষোভ ঠেকাতে রেল ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ, সড়কে ব্যারিকেড এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিজেপি পরে নেতাদের আটকের প্রতিবাদ জানিয়ে তাদের মুক্তি দাবি করে।
দলটির ভাষ্য, বিক্ষোভের নেতৃত্বকে কর্মসূচির আগেই আটক করার ফলে আন্দোলন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
একই কর্মসূচিতে যোগ দিতে জার্মানি থেকে ভারতে আসা ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও শনিবার সকালে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার বাসভবন থেকে আটক করা হয় বলে এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য তার বাসভবনে যান। পুলিশের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, দিল্লিতে নিষেধাজ্ঞা এবং বিক্ষোভের অনুমতি না থাকার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রাঠীকে কর্মসূচিতে অংশ না নিতে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি রাজি না হওয়ায় তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশের বক্তব্য। তবে আটকের পর তার অবস্থান ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাঠী এর আগে বেঙ্গালুরুতে নির্বাচন কমিশনবিরোধী কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তার আটকের ঘটনায় সিজেপি প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছে।
দলটির বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রশ্ন তোলার কারণে আন্দোলনকারীদের ওপর দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকেও শনিবার দিল্লিতে আটক করা হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের কাছে তাকে আটক করা হয়। তার সঙ্গে ছিলেন রাজ্যসভার সংসদ সদস্য জন ব্রিটাস এবং কেরালার অর্থমন্ত্রী কে এন বালাগোপাল। তাদের প্রথমে শহরের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়ার পর চাণক্যপুরী এলাকার ছত্রসাল স্টেডিয়ামে নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের আটকের ঘটনাও দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রাজধানীর অন্য এলাকাতেও ধরপাকড়ের খবর পাওয়া গেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, যন্তর মন্তরের দিকে আসা আন্দোলনকারীদের বিভিন্ন স্থানে থামিয়ে বাসে তোলা হয়েছে। পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, প্রবেশপথ ও জনসমাগমস্থলে অবস্থান নেন। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংসদ মার্গ, কনট প্লেস এবং সুপ্রিম কোর্টের আশপাশ থেকেও আন্দোলনকারী ও আইনজীবীদের আটক করার কথা বলা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আটকের সংখ্যা ভিন্ন হওয়ায় মোট কতজনকে আটক করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
বিক্ষোভের আগে দিল্লির পরিবহনব্যবস্থায়ও ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের বাংলা সংস্করণ জানিয়েছে, প্রথমে ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ থাকার তথ্য উঠে এসেছে। অর্থাৎ, প্রাথমিক পরিকল্পনা ও পরবর্তী সময়ে কার্যকর ব্যবস্থার মধ্যে পার্থক্য ছিল। বন্ধ থাকা স্টেশনগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কেন্দ্রীয় এলাকার স্টেশনও ছিল বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
এর পাশাপাশি রাজধানীর নির্দিষ্ট এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত করা হয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনপথ ও কর্তব্যপথের সংযোগস্থলকে কেন্দ্র করে চার কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ৯ অক্টোবর রাত ১০টা থেকে ১০ অক্টোবর রাত ১০টা পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর রাখার কথা ছিল। কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল বা পুনর্নির্ধারণ করা হয় এবং দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ একাধিক সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনা দেয়। কনট প্লেসের কিছু বাজার বন্ধ রাখার খবরও পাওয়া যায়। ফলে বিক্ষোভস্থলের বাইরেও রাজধানীর দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ে।
নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে ভোটারদের অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং বিজেপি নির্বাচনী সুবিধা পেতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বাদ পড়া নামগুলোর মধ্যে স্থানান্তরিত, খুঁজে পাওয়া যায়নি এমন এবং মৃত ভোটারদের নামও রয়েছে।
কমিশনের বক্তব্য, যাচাইয়ের খসড়া পর্যায়ে চিহ্নিত নামের সংখ্যা এবং চূড়ান্তভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের বিষয়টি এক নয়; ভুলভাবে বাদ পড়া ভোটারদের পুনরায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগও রয়েছে।
অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি ভোটার তালিকা সংশোধনে রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচনে তাদের সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ভূমিকা রয়েছে। বিরোধী দলগুলো অবশ্য নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছে। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক এখন কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ নেই; তা রাজনৈতিক আস্থা, নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং নাগরিকের ভোটাধিকার নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দিল্লিতে শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে একদিকে নিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার যুক্তি তুলে ধরেছে প্রশাসন, অন্যদিকে বিরোধী দল ও আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক রাজনৈতিক নেতার আটক, সিজেপির নেতৃত্বকে কর্মসূচির আগেই হেফাজতে নেওয়া এবং রাজধানীর পরিবহন ও যোগাযোগব্যবস্থায় বিধিনিষেধ সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। আটক ব্যক্তিদের মুক্তি, তাদের বিরুদ্ধে কী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগের পরবর্তী অগ্রগতি এসব বিষয় এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








