স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:২৫, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ক্যাম্প ছাড়ায় বড় শাস্তির মুখে রোনালদো

ক্যাম্প ছাড়ায় বড় শাস্তির মুখে রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে পর্তুগিজ ফুটবল অঙ্গনে তৈরি হওয়া চরম নাটকীয়তা ও সংকট এখন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে। কোচ হোর্হে জেসুসের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ, ফিফা ও পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) কঠোর শৃঙ্খলাবিধি, এবং তারকা ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে তৈরি হয়েছে এক জটিল পরিস্থিতি।

উয়েফা নেশনস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর আগে পর্তুগাল জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প ত্যাগ করেন দলের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের ঠিক আগে ঘটে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা। নরওয়ের বিপক্ষে নেশনস লিগের ম্যাচে ৪১ বছর বয়সী এই তারকাকে বেঞ্চে বসিয়ে রাখাকে কেন্দ্র করে মূলত কোচের সঙ্গে তার বিরোধের সূত্রপাত হয়। রোনালদোর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, তাকে মাঠে নামানোর সময় ও সুযোগ নিয়ে প্রধান কোচ হোর্হে জেসুস এবং তার প্রতিশ্রুত ব্যবস্থার মধ্যে মিল না থাকায় তীব্র অসন্তোষের জন্ম হয়।

বিশেষ করে, বর্তমান কোচ হোর্হে জেসুস সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে রোনালদোর সাবেক কোচ হওয়ার কারণে এই দুজনের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও পেশাদার সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচেও একাদশে রাখা হবে না এমন নিশ্চিত তথ্য পাওয়ার পর হতাশা ও ক্ষোভ থেকে তিনি দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান। 

যদিও ঘটনার আকস্মিকতা সামলে পরবর্তীতে সতীর্থ ও ভক্ত-সমর্থকদের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন রোনালদো। 

তিনি স্বীকার করেন যে, একজন অধিনায়ক ও দলের মূল খেলোয়াড় হিসেবে তার এই আচরণ সঠিক ছিল না এবং এর জন্য নির্ধারিত পরিণতি মাথা পেতে নিতে তিনি প্রস্তুত।

পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনের (এফপিএফ) শৃঙ্খলা বিধিমালার কঠোর বিধান অনুযায়ী রোনালদোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। পর্তুগিজ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম এ বোয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ফিফা ফুটবল ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং বিশিষ্ট আইনজীবী গনসালো আলমেইদা এই শৃঙ্খলাভঙ্গের আইনি দিক ও সম্ভাব্য শাস্তির বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।

আরও পড়ুন: মেসির বিদায়ে রোনালদোর আবেগঘন বার্তা

এফপিএফ-এর শৃঙ্খলা বিধিমালার ১৬০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো খেলোয়াড় নিয়মিত ডাক পাওয়ার পরও বিনা কারণে জাতীয় দলের কার্যক্রম, ম্যাচ বা প্রতিনিধিত্বমূলক শিবির ত্যাগ করেন, তবে তাকে ন্যূনতম ১ থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হবে। পাশাপাশি পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে ৫১০ থেকে ১,০২০ ইউরো পর্যন্ত আর্থিক জরিমানার বিধানও রয়েছে। 

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনুমতিহীন এই দলত্যাগ খেলোয়াড়ের ওপর স্বয়ংক্রিয় সতর্কতামূলক নিষেধাজ্ঞা ডেকে আনে, ফলে রোনালদো বর্তমানে আইনগতভাবে জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছেন।

আইনজীবী গনসালো আলমেইদার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, রোনালদোর জন্য কিছুটা স্বস্তির বিষয় হতে পারে এফপিএফ-এর শৃঙ্খলা বিধিমালার ২৪৪ নম্বর ধারা। এই ধারা মোতাবেক, অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি তদন্ত চলাকালে নিজের দোষ বা ঘটনাগুলো নিঃশর্ত ও পুরোপুরিভাবে স্বীকার করেন এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে কোনো সংশয় না থাকে, তবে আর কোনো দীর্ঘ সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালানো হয় না। ফলস্বরূপ, প্রযোজ্য শাস্তির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ সীমা সরাসরি অর্ধেকে নেমে আসে।

রোনালদো নিজেই তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিবৃতির মাধ্যমে ক্যাম্প ছাড়ার বিষয়টি নিঃশর্তভাবে স্বীকার করায় এবং ফেডারেশনের শাস্তি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল এই অনুকম্পা দেখাতে পারে। এক্ষেত্রে তার সর্বনিম্ন সাজা ১ মাস থেকে কমে ১৫ দিন এবং জরিমানা ২৫৫ ইউরোতে নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। 

তাছাড়া, এফপিএফ-এর শৃঙ্খলা বিধিমালার ৪৪ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিগত বছরগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড না থাকা, ফুটবলে অনন্য অবদান এবং দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ নিবেদনের বিষয়গুলোও ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের বিচার্য বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

জাতীয় দলের এই তীব্র বিতর্কের মাঝেই ক্লাব ফুটবলে নিজের চেনা ছন্দে ফিরেছেন রোনালদো। সৌদি প্রো লিগের এক ম্যাচে রিয়াদে আল নাসর ৩-০ গোলে হারিয়েছে আল দিরিয়াকে। ওই ম্যাচে দলের হয়ে জালের দেখা পেয়ে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের গোলসংখ্যা ৯৮০-এ উন্নীত করেছেন পর্তুগিজ এই অধিনায়ক। জাতীয় দলের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ক্লাব ফুটবলের এই পারফরম্যান্স তাকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিয়েছে।

এদিকে, আগামী ১৪ নভেম্বর পরবর্তী ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডেনমার্কের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল এবং এর তিন দিন পর তারা ওয়েলস সফরে যাবে। ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে এবং স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞার সময়কাল মূল শাস্তি থেকে কেটে নেয়, তবে আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোতে রোনালদোর মাঠে ফেরার একটা ক্ষীণ সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে। পর্তুগালের কোচ হোর্হে জেসুসও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রোনালদো চাইলে আলোচনার মাধ্যমে জাতীয় দলে পুনরায় ফিরতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে এফপিএফ-এর ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের পরবর্তী বৈঠকের ওপর।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়