রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ৪ দিনের রিমান্ডে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর পল্লবী ও বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিএমপি) অভিযানে গ্রেফতার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত দুই সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) দেবাশীষ ও লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
সন্ত্রাসবিরোধী আইন, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং পেনাল কোডের ১২৪ (ক) ধারায় পল্লবী থানায় দায়ের করা মামলায় সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) পল্লবী জোনাল টিমের একটি দল রবিবার (১১ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বনানী ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে গ্রেফতার আসামিরা তাদের সহযোগীদের নিয়ে নিয়মিতভাবে সরকার ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র এবং কুৎসামূলক অপপ্রচার চালিয়ে আসছিলেন। আসামিরা পল্লবী থানাধীন একটি বাসায় অবস্থান করে Bangladesh Awami League Supporters Alpha 1 এবং BBM Transparency নামের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংসতায় উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।
তাছাড়া কালআজকাল ডটকম নামক একটি ফেসবুক পেজ ও পোর্টালের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল ও সহিংস পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, সাবেক এই দুই সেনা কর্মকর্তা ইউনিটি কেয়ার ও পাবলিক পার্লামেন্ট নামের একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সার্বিক যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাজনৈতিক পুনর্বাসন ঘটিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনায় অবৈধ অর্থায়ন এবং সাইবার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তাছাড়া, বিশেষ করে লেফটেন্যান্ট (অব.) কাজী গুলশান আরার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় একটি গোলটেবিল বৈঠকের মাধ্যমে তারা বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ নামে একটি ১০১ সদস্যের কমিটি গঠন করেন এবং ওই সংগঠনের আড়ালে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালান বলে ডিবি সূত্রে জানা গেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক শেখ বশির আহমেদ আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করেন। কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে আসামিদের এজলাসে তোলা হলে শুনানি শুরু হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করে বলেন, আসামিরা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বিভিন্ন গোপন গ্রুপ পরিচালনা করতেন এবং পলাতক রাজনৈতিক নেতা ও দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে তাদের যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে, যা উদঘাটনে তাদের রিমান্ড প্রয়োজন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন জানিয়ে দাবি করেন, শুধু কিছু ফেসবুক পেজ বা সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট ছাড়া রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্রের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এবং আসামি গুলশান আরা শারীরিকভাবে অসুস্থ। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে দুই আসামির চার দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ডিবি পুলিশ জানায়, রিমান্ডকালে অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান চিহ্নিত করা, রাষ্ট্রবিরোধী কাজে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীদের শনাক্ত করা, ডিজিটাল আলামত উদ্ধার এবং অবৈধ অর্থায়নের মূল উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা চালানো হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








