নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৬:৩৯, ১২ অক্টোবর ২০২৬

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর পরিশোধে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

ফাইল ছবি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কল্যাণ-এর কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি আয়কর পরিশোধের বিষয়ে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে সোমবার (১২ অক্টোবর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের স্বাক্ষরের পর ১৫ ও ৩২ পৃষ্ঠার পৃথক দুটি রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায়ে আগামী তিন অর্থবছরের মধ্যে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের এই বকেয়া অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) পুনর্মূল্যায়নের পর ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫, ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭—এই পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা আয়কর দাবি করেছিল। এনবিআরের এই দাবির বৈধতা ও আইনগত ভিত্তি চ্যালেঞ্জ করে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট আবেদন করে গ্রামীণ কল্যাণ। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রিটগুলো গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর দাবির ওপর রুল জারি করেছিলেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের নতুন বেঞ্চ রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারিকৃত সেই রুল খারিজ করে দেন। ফলে এনবিআরের দাবি করা কর আদায়ের ক্ষেত্রে সকল আইনি বাধা অপসারণ হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের কর আদায়ের পথ উন্মুক্ত হয়।

আরও পড়ুন: জামিন মেলেনি এমপি গাজী নজরুলের

এই আইনি লড়াইয়ের পেছনে রয়েছে নানা নাটকীয়তা ও বিচারিক পটপরিবর্তন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের ৪ অক্টোবর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এনবিআরের দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা পরিশোধের পক্ষে ইতিপূর্বে দেওয়া একটি রায় হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রত্যাহার করে নেন। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়টি প্রত্যাহার করে মামলার নথি প্রধান বিচারপতির দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন।

মূলত সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারক অতীতে সরকারি কৌঁসুলী বা ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এসব মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এই স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে মামলাটি শুনানির জন্য বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন নতুন বেঞ্চে স্থানান্তরিত হয়। নতুন এই বেঞ্চে দীর্ঘ শুনানির পর রিটগুলো খারিজ করে রায় ঘোষণা করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের পর গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন জানানো হয়েছিল। তবে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চেম্বার আদালত হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেননি, ফলে উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকে। 

আইনি বিশ্লেষক ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মতে, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের কর ফাঁকি বা কর অব্যাহতি দাবির আইনি যুক্তির অবসান ঘটেছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনবিআর আইনগতভাবেই এই বিশাল অংকের রাজস্ব রাষ্ট্রীয় কোষাগারে আদায় করতে পারবে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়