নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:১৫, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ২০:১৭, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি, বাকিগুলোতে পরীক্ষা

স্কুলে ভর্তির নতুন নীতিমালা, প্রথম শ্রেণিতে লটারি, বাকিগুলোতে পরীক্ষা

ফাইল ছবি

দেশের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের লটারি প্রথা বাতিল করে পুনরায় লিখিত পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর আনুষ্ঠানিক নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। নতুন এই ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথম শ্রেণিতে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হলেও দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি মাধ্যমিক-১ শাখার উপসচিব তানিয়া ফেরদৌস স্বাক্ষরিত এই ভর্তি নীতিমালা জারি করা হয়। এর ফলে করোনা মহামারি পরবর্তী সময়ে চালু হওয়া সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তির ব্যবস্থার অবসান ঘটে নতুন এই কাঠামোগত রূপ লাভ করল।

প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর এন্ট্রি শ্রেণি অর্থাৎ প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে ডিজিটাল লটারি পরিচালনা করা হবে। এই স্তরে অনলাইনে আবেদনের সময় একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা পছন্দক্রম নির্বাচন করতে পারবে। তবে কোনো বিদ্যালয়ে দ্বৈত শিফট বা পালা থাকলে এবং উভয় শিফট পছন্দ করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য করা হবে। কোনো শিক্ষার্থী একই প্রতিষ্ঠানে একাধিকবার আবেদন করলে তার সব আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বলে গণ্য হবে। 

অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করবে এবং নির্বাচিত তালিকার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমানসংখ্যক অপেক্ষমাণ বা ওয়েটিং লিস্ট প্রস্তুত রাখবে।দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার মানবণ্টনপ্রাথমিক স্তরের গণ্ডি পেরিয়ে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য সুনির্দিষ্ট নম্বরের লিখিত পরীক্ষা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী পরীক্ষার পূর্ণমান ও সময় বিভাজন নিম্নরূপ:

দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি: এই স্তরের ভর্তি পরীক্ষার মোট পূর্ণমান হবে ৫০ নম্বর। এর মধ্যে বাংলায় ১৫, ইংরেজিতে ১৫ এবং গণিতে ২০ নম্বর বরাদ্দ থাকবে। পরীক্ষার মোট সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১ ঘণ্টা।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি: এই স্তরের ভর্তি পরীক্ষার মোট পূর্ণমান হবে ১০০ নম্বর। এর মধ্যে বাংলায় ৩০, ইংরেজিতে ৩০ এবং গণিতে ৪০ নম্বর থাকবে। এই পরীক্ষার জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে ২ ঘণ্টা।

আরও পড়ুন: ২০২৭ সাল থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বিষয়

লিখিত পরীক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যবই থেকেই মানসম্মত ও শ্রেণি উপযোগী প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করতে হবে। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় কেবল কালো কালির কলম ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে।

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুসরণে প্রথম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর বয়স ৬ বছর প্লাস বা ৬ বছরের বেশি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত শিথিল রাখা হয়েছে। অন্যান্য সব শ্রেণিতেও এই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী বয়স নির্ধারিত হবে এবং জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিয়ে বয়স প্রমাণ করতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত ছাড় বা সুবিধা মিলবে। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী প্রতি শ্রেণির প্রতিটি শাখায় শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ জন।

পরীক্ষা আয়োজনের ক্ষেত্রে সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ও সুষ্ঠু আসনবিন্যাস নিশ্চিত করতে হবে। যানজট নিরসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মার্চ মাসে জাতীয় সংসদে লটারি পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন সংসদ সদস্যরা। পরবর্তীতে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দিয়ে জানান যে লটারি সিস্টেম প্রত্যাহার করে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যদিও শিক্ষাবিদদের একটি অংশ প্রাথমিক স্তরে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ফলে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও কোচিং নির্ভরতা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, তবুও সার্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত লিখিত পরীক্ষার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করা হয়।

এদিকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাশাপাশি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও এই একই নীতিমালার আদলে খুব শীঘ্রই পৃথক ভর্তি নীতিমালা জারি করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়