নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:৪৬, ৩ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ২০:৪৯, ৩ অক্টোবর ২০২৬

পাঠ্যবইয়ে অনিয়মে প্রেস মালিকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

পাঠ্যবইয়ে অনিয়মে প্রেস মালিকদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি শিক্ষামন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহে কোনো ধরনের অনিয়ম বা প্রতারণা বরদাশত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যেসব ছাপাখানার মালিক বা প্রিন্টার্স পাঠ্যবই ছাপানোর ক্ষেত্রে প্রতারণার আশ্রয় নেবেন, তাদেরকে আগামী বছর থেকে আর কোনো বই ছাপার কাজ দেওয়া হবে না।

শনিবার (০৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা শীর্ষক আলোচনা সভা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্থানীয় মুদ্রণশিল্পের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে উল্লেখ করে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, অতীতে ভারতসহ বিদেশ থেকে বই ছাপিয়ে আনার রেওয়াজ থাকলেও বর্তমান সরকার দেশীয় মুদ্রণশিল্পকে শক্তিশালী করতে সচেষ্ট রয়েছে। এ কারণেই এ বছর কোনো বিদেশি কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। তবে পাঠ্যবইয়ের গুণগত মানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না এবং কাগজ, কালি কিংবা ছাপাখানা কোনো ক্ষেত্রেই কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দরপত্রের শর্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কম জিএসএম-এর কাগজ বা নিম্নমানের কালি ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মানসম্মত ও ভালো মানের কাগজ-কালি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে ইতিমধ্যে প্রকাশকদের কাছ থেকে নিম্নমানের প্রায় তিন লাখ বই ফেরত নিয়ে বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহ বা এর সঙ্গে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: মধ্যরাতে হঠাৎ ছাপাখানায় শিক্ষামন্ত্রী, যাচাই করলেন বইয়ের মান

শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই অর্থাৎ জানুয়ারির প্রথম দিনেই নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদেও তারা সময়মতো শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দিয়েছিলেন। বর্তমান দেশীয় প্রিন্টার্সরা মানসম্মত বই তৈরিতে সহযোগিতা করছেন এবং সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শতভাগ মানসম্মত পাঠ্যবই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো নিশ্চিত করা হবে।

আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের নতুন বই দেওয়ার পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারিভাবে স্কুল ইউনিফর্ম ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ বিতরণের নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে বহুমুখী পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে বর্তমান ১৫০টি উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু থাকা মিড ডে মিল বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি ভবিষ্যতে সারা দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ি মাদরাসায় সম্প্রসারণ করার সুদূর প্রসারী পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী। এই কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনতে এবং মানসম্মত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে কুপন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে ক্যানটিন থেকে খাবার সংগ্রহ করতে পারবে। এছাড়া স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে খাদ্যতালিকা সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা ও মা-বোনদের সম্পৃক্ত করে প্রক্রিয়াটি বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

পরীক্ষা পদ্ধতির স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে ভবিষ্যতে সব পরীক্ষার প্রশ্নপত্র দুই সেট করে ভিন্ন দুটি স্থান বিজি প্রেস এবং আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে প্রস্তুত করা হবে। শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় অপচয় রোধ এবং বর্ষাকালীন দুর্যোগ এড়িয়ে সুনির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, দেশের প্রতিটি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানকার কারিকুলামে তৃতীয় ভাষা চালুর ব্যবস্থাও রাখা হবে।

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক এডুকেশন হাব বা শিক্ষাকেন্দ্রে পরিণত করার সুদূরপ্রসারী লক্ষ্যের কথা জানান ড. মিলন। এর অংশ হিসেবে ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম চালু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংয়ে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা খ্যাতনামা বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বাংলাদেশে তাদের শাখা বা ক্যাম্পাস খুলতে পারে, সেটির আইনি পথ সুগম করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়