অপতথ্য প্রতিরোধে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান তথ্য প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য ও অসত্য তথ্যকে অশুভ সংকেত হিসেবে উল্লেখ করে এগুলো প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, তথ্যপ্রবাহের বর্তমান সময়ে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ণয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মিডিয়া লিটারেসি, বিশ্লেষণী সক্ষমতা এবং দায়িত্বশীল যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (০৩ অক্টোবর) রাজধানীর নটরডেম কলেজে আয়োজিত ২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ বরাবরই দেশ গঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে এসেছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তাদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ডিজিটাল যোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে এখন খুব দ্রুত মানুষের কাছে নানা ধরনের তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সত্য তথ্যের পাশাপাশি অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও ছড়িয়ে পড়ছে। তাই কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা তা যাচাই করে তথ্য গ্রহণ ও প্রচারের সক্ষমতা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে মিডিয়া লিটারেসি ও দায়িত্বশীল যোগাযোগের চর্চা তরুণদের আরও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না সরকার
নটরডেম কলেজে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এর আগেও বন্ধুদের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানে এসেছেন এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনো তাঁর মনে গেঁথে আছে। নটরডেম কলেজের ক্যাম্পাসে এসে পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, মিডিয়া কার্নিভালের মতো আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা এবং দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চার সুযোগ তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে শিক্ষার্থীরা এসব ক্ষেত্রে আরও এগিয়ে যেতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তরুণদের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে সরকারের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, সিএসসি; ফাদার অ্যান্টনি গোমেজ রোজারিও, সিএসসি; নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের মডারেটর শাপলা বনিক; দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ-এর চেয়ারম্যান রুবায়েত মান্নান রাফি; এনসিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিভিশন আনিসুর রহমান মজুমদার; চায়না এডুকেশন বাংলাদেশের সিইও সাজ্জাদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিমরান রহমান উপস্থিত ছিলেন।
নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের উদ্যোগে ২ ও ৩ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিডিয়া, যোগাযোগ, গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল কাজ করছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








