আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:৪৩, ৩ অক্টোবর ২০২৬

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী ৬টির বেশি দেশ

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে আগ্রহী ৬টির বেশি দেশ

ফাইল ছবি

সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি-তে যোগ দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ছয়টিরও বেশি দেশ এই জোটে যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা জানিয়েছে। 

শুক্রবার (০২ অক্টোবর) ইসলামাবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কৌশলগত ও নিরাপত্তার কারণে আগ্রহী দেশগুলোর নাম এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না বলে তিনি জানান।

চলতি বছরের গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে এই ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা পরবর্তীতে মক্কা প্রতিরক্ষা জোট হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এই জোটের মূল নীতি ন্যাটোর যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুচ্ছেদ-৫ এর আদলে তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর থেকে আক্রমণ বা আগ্রাসন চালানো হলে, তা সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে ইসহাক দার স্পষ্ট করে বলেন যে, এই চুক্তি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক এবং এর পেছনে কোনো রকম আক্রমণাত্মক বা আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। জোটটির প্রধান সদর দপ্তর সৌদি আরবে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, গত ৩১ আগস্ট এই চুক্তির আওতায় প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটের প্রথম মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। তাকে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও ধর্মপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করেন ইসহাক দার।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২২ আফগান যোদ্ধা নিহতের দাবি, কাবুলের অস্বীকার

সৌদি আরবের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ১৭ থেকে ১৮টি পৃথক হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের সর্বশেষ নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী সপ্তাহে মক্কা চুক্তির আওতায় একটি জরুরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।

সৌদি আরবের সুরক্ষার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইসহাক দার বলেন, “আমরা সৌদি আরবকে রক্ষা করতে বাধ্য এবং প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” জাতিসংঘ সনদের বিধান অনুযায়ী এ ধরনের যৌথ প্রতিরক্ষা জোট গঠন এবং পারস্পরিক সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ণ বৈধতা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গটিও উঠে আসে। ইসহাক দার জোরালো ভাষায় বলেন, এই আন্তর্জাতিক জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক ও অন্যান্য জাহাজ চলাচলের জন্য কোনো ধরনের ফি বা সার্ভিস চার্জ আদায় করা উচিত নয়। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি উভয়ই এই সংকটের একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান চান বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে আঞ্চলিক স্বার্থের দ্বন্দ্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে দার জানান, কাবুলের প্রতি পাকিস্তানের সবসময় শুভকামনা রয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি কঠোর শর্ত জুড়ে দিয়ে বলেন, আফগান ভূখণ্ডকে কোনো অবস্থাতেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এবং পাকিস্তানের পক্ষ থেকে চিহ্নিত ফিতনা আল-হিন্দুস্তান-এর বিরুদ্ধে আফগান অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে এমন সুস্পষ্ট প্রমাণ কাবুলকে উপস্থাপন করতে হবে। এছাড়া, গত অক্টোবর থেকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বন্ধ থাকার ফলে কিছু এলাকায় ফসল নষ্ট হওয়ার বিষয় সম্পর্কে পাকিস্তান অবগত রয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করেন তিনি।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়