নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও দাম্মাম ফ্লাইট
ফাইল ছবি
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে চলমান নিরাপত্তা সংকট এবং ধারাবাহিক হামলার প্রেক্ষিতে যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এই সংস্থাটি আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদ ও দাম্মামগামী সব নিয়মিত ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো পৃথক প্রেস বিজ্ঞপ্তি ও বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে চলমান হামলার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাত্রীদের ঝুঁকি এড়াতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত এই সময়সীমা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ সময় ও তারিখ অনুযায়ী কার্যকর থাকবে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী যাত্রাসূচি, নতুন সময়সূচি কিংবা পুনর্বিন্যাস সম্পর্কে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাপেক্ষে যথাসময়ে বিমান কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানিয়ে দেওয়া হবে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।
এদিকে রিয়াদ ও দাম্মাম রুটের ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরব যাতায়াত এবং দেশে বা প্রবাসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের সাময়িক বিকল্প হিসেবে জেদ্দা এবং মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রীদের টিকিট রি-ইস্যু, রুট পরিবর্তন বা ভ্রমণসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য নিকটস্থ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সেলস সেন্টার বা বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: হামলার জেরে সৌদির ফ্লাইট বিপর্যয়ে অনিশ্চয়তায় হাজারো কর্মী
উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনায় গত ১০ অক্টোবর থেকে আকাশপথে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। রিয়াদ বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় গত শনিবার থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের প্রায় ৬১টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ৯ হাজার ২৬৯ জন প্রবাসী ও সাধারণ যাত্রী। বাতিল হওয়া এসব ফ্লাইটের মধ্যে ২২টি সরাসরি এবং ৩৯টি ছিল ট্রানজিট ফ্লাইট। এর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইটের তালিকায় ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ৯টি, ইউএস-বাংলার ২টি, সৌদিয়ার ৪টি এবং রিয়াদ এয়ারের ৭টি ফ্লাইট।
অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ১৬টি, এমিরেটসের ৯টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৫টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৫টি, সালামএয়ারের ৩টি এবং ইজিপ্টএয়ারের ১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট এভিয়েশন সংকট ও যাত্রী ভোগান্তি লাঘবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সাথে সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করা, কোনো যাত্রীকে বিমানবন্দরে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে না রাখা এবং ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি কিংবা অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতায় সৌদি দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








