হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, প্রাণহানি ১১৭০
ফাইল ছবি
দেশে মারাত্মক রূপ নেওয়া প্রাদুর্ভাবের মধ্যে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা সত্ত্বেও কোনোভাবেই থামছে না প্রাণঘাতী হামের তাণ্ডব। সারা দেশে দৈনিক শনাক্তের পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর মিছিলও।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৬ জন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া বর্তমান প্রাদুর্ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ জনে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিন ও সর্বশেষ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই আশঙ্কাজনক চিত্র পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৭৪ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে নিবিড় ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে আরও ১৪৯ জনের শরীরে প্রাক-নিশ্চিত হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
নতুন করে উপসর্গ দেখা দেওয়া ১,০৭৪ জন রোগীর আঞ্চলিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে রাজধানীসহ ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে। গত এক দিনে ঢাকা বিভাগে ২৯৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৪৬ জন, সিলেটে ১৪২ জন, বরিশালে ১৩২ জন, খুলনায় ১২৬ জন, ময়মনসিংহে ৭২ জন, রাজশাহীতে ৩৭ জন এবং রংপুরে ২৪ জন নতুন উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, নিশ্চিত হওয়া ১৪৯ জন নতুন আক্রান্তের মধ্যে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৭ জন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৬৩ জন এবং খুলনা বিভাগে ৯ জনের শরীরে নিশ্চিত হামের জীবাণু মিলেছে।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২১
স্বাস্থ্য বুলেটিন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৬ জন শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। মৃতদের মধ্যে নিশ্চিত হামের কারণে মৃত্যু ও জটিল উপসর্গজনিত মৃত্যুর ঘটনা উভয়ই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশে হাম ও এর উপসর্গ ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। গত সাত মাসেরও বেশি সময়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান অনুযায়ী পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক হয়ে উঠেছে। এই সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ৭১২ জনে এবং সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা পৌঁছেছে ২ লাখ ৭ হাজার ৩৭১ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মোট ১০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং হামের উপসর্গ ও জটিলতায় মারা গেছে ১ হাজার ৬৬ জন, যার ফলে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ জনে।
এছাড়া প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৬৯ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
চিকিৎসকদের মতে, অপুষ্টিতে ভোগা এবং টিকাবঞ্চিত শিশুরা হামে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়া, তীব্র ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং তীব্র জ্বরজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশজুড়ে অতিরিক্ত টিকাদান বা মপ-আপ ক্যাম্পেইন জোরদার করেছে। বিশেষ করে ঢাকার জনবহুল বস্তি এলাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটের দুর্গম অঞ্চলগুলোতে টিকা না পাওয়া শিশুদের খুঁজে বের করে টিকাদানের আওতায় আনার কাজ চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নজরদারি টিম শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








