হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৪২১
ফাইল ছবি
দেশে তীব্র আকার ধারণ করা হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে (রবিবার সকাল আটটা থেকে সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত) দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুই রোগীর প্রাণহানি ঘটেছে। যদিও এই নির্দিষ্ট সময়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি, তবে রোগটির বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ৪২১ জনের শরীরে রোগটির উপসর্গ ও সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রেস বিজ্ঞপ্তি, হেলথ বুলেটিন এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে যে দুজন মৃত্যুবরণ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রশাসনিক ও জেলাভিত্তিক তথ্যানুযায়ী কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলায় একজন করে এবং বিভাগীয় হিসেবে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মোট দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে দেশে নতুন করে ১৫২ জনের শরীরে ল্যাব-পরীক্ষিত নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ১ হাজার ২৬৯ জনের শরীরে হামের তীব্র উপসর্গ দেখা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪২১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বিভাগভিত্তিক নতুন রোগী ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী পাওয়া গেছে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকা বিভাগে যেখানে ৫৮৯ জন রোগী হাসপাতালে এসেছেন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ২৭২ জন, সিলেটে ১৪৪ জন, বরিশালে ১৩৭ জন, খুলনায় ১১৩ জন, ময়মনসিংহে ৯৫ জন, রাজশাহীতে ৩২ জন এবং রংপুর বিভাগে ২৯ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
আরও পড়ুন: হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবের পর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৬৪ জন ছাড়িয়ে ১ হাজার ১ শত চৌষট্টি জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছেন ১০৪ জন এবং বাকি ১ হাজার ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের মারাত্মক উপসর্গ নিয়ে।
রোগতত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব বা মহামারির সময় রোগের স্পষ্ট লক্ষণ ও তীব্র উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণকারীদেরও সংশ্লিষ্ট রোগের পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ বলি হিসেবে গণ্য করা হয়। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ২৯৭ জনে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৫৭৩ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে যে, এই সময়ে হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৫৫ জন।
দেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ও চিকিৎসা গবেষকদের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকেই শিশুদের মধ্যে হামের এই বহুমাত্রিক সংক্রমণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, ভিটামিন-এ এর ঘাটতি রয়েছে এমন পরিবার এবং যারা নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে থেকে গেছে, তাদের ক্ষেত্রে হামের আক্রমণ মারাত্মক জটিল রূপ নিচ্ছে। অনেক সময় হামের পাশাপাশি নিউমোনিয়া বা তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ যুক্ত হওয়ায় রোগীর অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ঢাকাসহ প্রতিটি বিভাগে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে এবং সন্দেহভাজন রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর ও শরীরে লালচে র্যাশের মতো হামের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা মাত্রই আইসোলেশনে রাখা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, অন্যথায় প্রাদুর্ভাবের এই শৃঙ্খল ভাঙা কঠিন হবে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








