নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৯:১৬, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তায় আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

তিস্তা প্রকল্পে কারিগরি সহায়তায় আগ্রহী নেদারল্যান্ডস

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাতের উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে উভয় দেশ। বিশেষ করে তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমারের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন সাংবাদিকদের পুরো আলোচনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

বৈঠকের মূল আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা ও পানিসম্পদ খাতের উন্নয়ন। তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দিতে নেদারল্যান্ডস সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেশটির এই সদিচ্ছাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ এবং নেদারল্যান্ডস উভয় দেশই বদ্বীপ বা ডেল্টা রাষ্ট্র। ভৌগোলিক ও পরিবেশগত সাদৃশ্য থাকায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে, নদীভাঙন রোধ এবং ভূমি পুনরুদ্ধারে ডাচ সরকারের দীর্ঘদিনের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ ও অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে এ বিষয়ে বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। জবাবে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, চর উন্নয়ন এবং অভিযোজনক্ষম নদীব্যবস্থাপনায় উভয় দেশের যৌথ কর্মপরিকল্পনা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার উপযুক্ত সময় এটি বলে মন্তব্য করেছেন নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বর্তমান পরিধি বাড়ানোর নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের বাণিজ্য সুবিধাকে দীর্ঘস্থায়ী ও সুদৃঢ় করতে ইইউর সঙ্গে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়েও বিস্তারিত কথা হয়। এ ক্ষেত্রে ডাচ সরকারের জোরালো কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা কামনা করে বাংলাদেশ। মুক্ত বাণিজ্যের এই ধারণার প্রতি নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রীও তার ইতিবাচক মনোভাব ও আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি ও সংকট উত্তরণে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন দূরদর্শী পদক্ষেপ সম্পর্কে বৈঠকে বিস্তারিত জানতে চান নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী। এ সময় দেশের টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক পরিকল্পনা ও রূপরেখার ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসার ও কৃষিখাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দেশটির উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে কৃষি খাতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত হয়।

দীর্ঘদিন ধরে চলা রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের ওপর বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করা হয় যে, এই সংকটের মূল উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর একমাত্র বাস্তবসম্মত সমাধানও সেখানেই নিহিত। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরালো করার আহ্বান জানানো হয়।

বৈঠকে দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও সুসংহত করা এবং সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পায়। রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) অতীতে দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় দমনপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সেই তিক্ত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে তার সরকার দেশে আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুসংহত করতে সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আলোচনা শেষে নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান।

উক্ত উচ্চপর্যায় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমীন এবং নেদারল্যান্ডসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ইওরিস ভ্যান বোমেলসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়