নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৮:৩৮, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত’

‘যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়িয়েছি, এখন বাড়তি সহায়তা পাওয়া উচিত’

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতি এবং দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ এখন মার্কিন সহযোগিতা ও সহায়তা পাওয়ার যোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন সহায়তা এবং দুই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংক এবং দেশটির সহায়তাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কোনো বড় সহায়তা বা সহযোগিতা পায়নি। তবে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের দৃশ্যমান উন্নতি ঘটেছে। বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ (এয়ারক্রাফট), জ্বালানি তেল, সয়াবিনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ও কমোডিটি নিয়মিত আমদানি করছে। 

দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের এই নতুন সমীকরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা তাদের জোর দিয়ে বলেছি, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বেশি আমদানি করছে এবং সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, তখন মার্কিন পক্ষ থেকে বাড়তি সহায়তা না এলে আর কবে আসবে? আমরা যে যৌক্তিক সহায়তাগুলো আশা করছি, সেগুলো এখন আসা উচিত।

আরও পড়ুন: বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার পেতে আলোচনা চলছে

তার মতে, মার্কিন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাংলাদেশের এই অবস্থানের সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত পোষণ করেছে। তবে এই প্রত্যাশিত সহায়তা বাস্তবে কতটা ও কোন প্রক্রিয়ায় মিলবে, তা সময়ই বলে দেবে।

বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক নীতির মূল কৌশল তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী জানান, দেশের উন্নয়নে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে। এর পরিবর্তে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। ব্যাংকক বৈঠকে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক নীতির মূল জোর হচ্ছে বিনিয়োগ। আমরা ঋণভিত্তিক সংস্কৃতি থেকে সরে এসে সরাসরি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগের দিকে বেশি যেতে চাই। সরকারের এই রূপরেখা বাস্তবায়িত হলে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়োজাহাজ, তেল ও সয়াবিনের মতো পণ্য আমদানির ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর একধরনের প্রভাব পড়ছে। বৈঠকে এই বাস্তবচিত্র তুলে ধরে বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। যদিও এই দ্বিপক্ষীয় আলোচনা থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো আর্থিক সহায়তার অঙ্ক বা নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনো ঘোষণা করা হয়নি, তবুও দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন এক সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়