এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার, গণশুনানি ২৯ অক্টোবর
ছবি: সংগৃহীত
বিতর্কিত এলপি গ্যাস খাতে চলমান সংকট ও ধর্মঘটের আবহ দূর করতে অবশেষে রফা হয়েছে। আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দেশজুড়ে ডাকা দুদিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছে এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। সেই সাথে এলপিজি গ্যাসের দাম পুনর্নির্ধারণ ও কমিশনের যৌক্তিক সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি আয়োজনের বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে বিইআরসি চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক এবং সচিবালয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হুশিয়ারির পর ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহারের এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে।
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের কোরেশী জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনার পর তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিইআরসি চেয়ারম্যান আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানির আয়োজন করে সব পক্ষকে নিয়ে দাবিসমূহ পর্যালোচনার সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে নভেম্বর মাসের নতুন দাম ঘোষণার সময় ব্যবসায়ীদের তোলা দাবি ও কমিশন সমন্বয় করার কথা বলা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে হওয়া মামলাগুলো রিভিউর আশ্বাসও মিলেছে।
ব্যবসায়ীদের মূল ক্ষোভের জায়গাটি ছিল পাইকারি পর্যায়ে মূল্যের অসংগতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়। বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি না পেয়ে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হওয়া এবং পরবর্তীতে খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রির দায়ে প্রশাসনের হয়রানি ও মামলার শিকার হওয়াকেই তারা আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন। কমিশন পুনর্নির্ধারণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কথিত হয়রানি বন্ধ এবং অব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার পুনরায় বাজারে ছাড়ার দাবিতে গত ১২ অক্টোবর তারা ধর্মঘটের আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহার না হলে আইনি ব্যবস্থা: জ্বালানিমন্ত্রী
তবে এই সংকটের মূলে রয়েছে কৃত্রিম সংকট ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর অসাধু তৎপরতা। রাষ্ট্রীয় একটি গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যানুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম টনপ্রতি ৬৪ ডলার বৃদ্ধি পাওয়ায় গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে অন্তত ৫টি আমদানিকারক কোম্পানি বাজারে সরবরাহ প্রায় বন্ধ করে দেয়।
সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আগস্টে ১ লাখ ৫৮ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে। ফলে বাজারে প্রকৃত ঘাটতির কোনো বাস্তব সুযোগ ছিল না; মূলত নতুন ও বর্ধিত দামে বিক্রির উদ্দেশ্যেই হাজার হাজার টন এলপিজি অবৈধভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল। মাঠ পর্যায়ে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে মোবাইল কোর্টের অভিযানের ঘোষণা থাকলেও মূল অভিযুক্ত আমদানিকারকদের বিরুদ্ধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর অভিযান চালানোয় পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নেয়।
এমন উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারের অবস্থান ছিল অত্যন্ত কঠোর। বুধবার সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সাথে এক যৌথ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে ধর্মঘট প্রত্যাহারের জোর আহ্বান জানান।
জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট হুশিয়ারি দিয়ে জানান, লাখ লাখ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্য নিয়ে কোনো ধরনের ব্ল্যাকমেইল বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হলে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কিত এই পণ্য নিয়ে কোনো প্রকার কারসাজি সরকার বরদাশত করবে না। সরকারের এই কঠোর বার্তা এবং বিইআরসির গণশুনানির আশ্বাসের পরই মূলত ব্যবসায়ীরা তাদের আন্দোলন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন।
২৯ অক্টোবরের কাঙ্ক্ষিত গণশুনানিতে সকল পক্ষের মতামত ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনার পরই এলপিজির কমিশন ও মূল্য কাঠামোর চূড়ান্ত সুরাহা আসবে বলে আশা করছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








