স্পোর্টস ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২০:০০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করল বাংলাদেশ

জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েও আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করল বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

তৃতীয় দিন শেষেই ম্যাচের নাটাই ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে এবং চতুর্থ দিন শেষে জয় কেবল সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু নিরপেক্ষ ভেন্যু আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে স্বাগতিক আফগানিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত এই টেস্টে কাঙ্ক্ষিত জয়ের দেখা পেল না টাইগাররা। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় পঞ্চম দিনে আফগান ব্যাটারদের অবিশ্বাস্য প্রতিরোধ এবং বাংলাদেশের ফিল্ডারদের সহজ সুযোগ হাতছাড়ার খেসারতে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে, যা জয়ের খুব কাছে গিয়েও টাইগারদের জন্য একটি বড় আক্ষেপের জন্ম দিয়েছে।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ নিজেদের প্রথম ইনিংসে সংগ্রহ করে ৩৪৬ রান, যার জবাবে আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হলে ১০৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ লিড পেয়েছিল সফরকারীরা। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে লিটন দাসের সেঞ্চুরি, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ভর করে ৭ উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। আফগানিস্তানের সামনে জয়ের জন্য পাহাড়সমান ৪৭১ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়, যা টেস্ট ক্রিকেটের চতুর্থ ইনিংসে তাড়া করা অত্যন্ত দুরূহ এক কাজ ছিল।

চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৩২ রান সংগ্রহ করা আফগানিস্তান পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য ৩৪৭ রান এবং বাংলাদেশের দরকার ছিল ৭টি উইকেট। দিনের শুরু থেকেই উইকেটে শিকড় গেড়ে বসেন ওপেনার সেদিকুল্লাহ আতাল। প্রচণ্ড গরমে ক্র্যাম্পের কারণে আফগান অধিনায়ক হাসমাতউল্লাহ শহীদী ৩৩ বলে ২০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে সাময়িক মাঠ ছাড়লেও, একপ্রান্ত আগле রেখে টেস্ট ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন আতাল। তিনি ৩৩২ বল মোকাবিলা করে ৯টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১১১ রানের এক ম্যারাথন ও ধৈর্যশীল ইনিংস খেলেন। পরে তাইজুল ইসলামের বলে শর্ট লেগে তানজিদ হাসানের হাতে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন।

আরও পড়ুন: আবুধাবিতে আফগানিস্তানকে ৪৭৯ রানের লক্ষ্য দিল বাংলাদেশ

আতালকে ফেরানোর পর বাংলাদেশ শিবির জয়ের সুবাস পেলেও শেষ দিকের ব্যাটারদের দৃঢ়তা সেই আশাকে ধূলিসাৎ করে দেয়। বিশেষ করে ফিল্ডিংয়ে একাধিক সুযোগ নষ্ট হওয়ার চড়া মূল্য দিতে হয়েছে টাইগারদের। ইনিংসে একাধিকবার জীবন পাওয়ার পাশাপাশি ১৩১তম ওভারে ডিপ মিডউইকেটে কাইস আহমেদের সহজ ক্যাচ ফেলেন হাসান মাহমুদ। এছাড়া রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করায় ম্যাচ বাংলাদেশের অনুকূলে রাখতে পারেনি বোলাররা। আতালের বিদায়ের পর কাইস আহমেদ ও ইয়ামিন আহমেদজাই অষ্টম উইকেটে প্রতিরোধ গড়ে তুললে বোলারদের শতচেষ্টা সত্ত্বেও আর কোনো উইকেট তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ইয়ামিন ৮৫ বলে ১৯ রান করে ফিরলেও, ৮০ বলে ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে কাইস আহমেদ এবং জিয়া-উর-রহমান বাকি ওভারগুলো পার করে দেন। ৮ উইকেটে ৩৪৬ রান তুলে আফগানিস্তান ড্র নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে।

ম্যাচে জয় হাতছাড়া হওয়ার আক্ষেপ থাকলেও ব্যক্তিগত অর্জনে আলো ছড়িয়েছেন উইকেটকিপার-ব্যাটার লিটন দাস। আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ও দ্বিতীয় ইনিংসে শতক হাঁকানোর পাশাপাশি ম্যাচে মোট ৮টি ডিসমিসাল সম্পন্ন করে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেনিস লিন্ডসের রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন তিনি। বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে দ্বিতীয় ইনিংসে এবাদত হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ তিনটি করে উইকেট শিকার করেন এবং হাসান মাহমুদ ও তাইজুল ইসলাম একটি করে উইকেট পান। জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় এই ড্রয়ের মাধ্যমে আফগানিস্তান নৈতিকভাবে জয়ের আনন্দ পেলেও বাংলাদেশ দলের জন্য এটি একটি বড় হতাশা হিসেবেই রয়ে গেল।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়