নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:৫৫, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
আপডেট: ০৮:৫৯, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে ক্রমান্বয়ে ভয়াবহ রূপ নেওয়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় নাগরিকদের ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে প্রতিটি পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদাত্ত আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত ওই ভিডিও বার্তায় সরকারপ্রধান স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সবক্ষেত্রেই দেশের মানুষ এক্যবদ্ধ হয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছে। জাতীয় সংকটে জনগণের এই সম্মিলিত শক্তি অতীতে যেমন সফলতা এনে দিয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে ডেঙ্গুর মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায়ও দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এডিস মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছেন তিন শতাধিক মানুষ। 

প্রকাশিত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। 

প্রধানমন্ত্রী গভীর বেদনার সঙ্গে উল্লেখ করেন, পত্রিকার পাতা খুললেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মৃত্যুর হৃদয়বিদারক খবর চোখে পড়ে। একটি পরিবারের জন্য আপনজন হারানোর এই বেদনা অপূরণীয়। তাই সরকারের পাশাপাশি প্রতিটি নাগরিক নিজ অবস্থান থেকে সচেতন না হলে এই মহামারী রোধ করা দুরূহ হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন: তরুণদের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে হবে

টিকার কার্যকারিতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, ডেঙ্গুর যে টিকা বর্তমানে রয়েছে তা রোগ নিরাময়ে বা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসায় খুব বেশি কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। তাই চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার আলোকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো এডিস মশার জন্মস্থল বা প্রজননক্ষেত্রগুলো ধ্বংস করা। ঘরের আনাচে-কানাচে, ছাদ বা বারান্দার টব, অব্যবহৃত পাত্র কিংবা রাস্তাঘাটে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশা ডিম পাড়ে ও বংশবিস্তার করে। তাই প্রজননস্থলগুলো চিহ্নিত করে নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

দেশজুড়ে ডেঙ্গু বিরোধী সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থীর পাশাপাশি বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড এবং রেড ক্রিসেন্ট ও রেড ক্রসের প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য গত এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশজুড়ে সাধ্যমতো আবর্জনা ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ করে যাচ্ছেন। এই যুবশক্তি ও তরুণদের উদ্যোগকে আরও বেগবান করতে সাধারণ মানুষকেও তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভিডিওবার্তার শেষ পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন, আমরা প্রত্যেকে মানুষ, প্রতিটি পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন করে যদি আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিই আমাদের ঘর, ঘরের আশপাশে এবং চলার পথে যেখানে ডেঙ্গু মশা জন্ম নিতে পারে, সেই জায়গাগুলো পরিষ্কার করে ফেলি।

সরকার একা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টাতেই কেবল দেশের প্রতিটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। সকলের সম্মিলিত সদিচ্ছা ও সচেতনতাই আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে বহু অমূল্য প্রাণ রক্ষা করতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়