‘জেমিনি ৪ আর্গন’ চালু করল গুগল
ছবি: সংগৃহীত
কোড লেখা, গবেষণা ও জটিল সমস্যা সমাধানের জন্য জেমিনি ৪ আর্গন নামে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেল চালু করেছে গুগল। মঙ্গলবার সফটওয়্যার নির্মাতা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মডেলটি উন্মুক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে মডেলটি ব্যবহারের খরচ নিয়মিত মূল্যের অর্ধেক রাখা হয়েছে।
জেমিনি এপিআইয়ের মাধ্যমে নিজেদের সফটওয়্যারে মডেলটি যুক্ত করতে পারবেন ডেভেলপাররা। এ ছাড়া গুগল এআইয়ের গ্রাহকেরা অ্যান্টিগ্র্যাভিটি, জেমিনি অ্যাপ ও গুগল সার্চের এআই মোডেও এটি ব্যবহার করতে পারবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার এবং আউটপুট টোকেনের মূল্য ১০ ডলার। টোকেন হলো এআই মডেলের তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষুদ্র একক। আগে প্রক্রিয়াকৃত ও সংরক্ষিত ইনপুট টোকেন ব্যবহারে রয়েছে ৯৫ শতাংশ ছাড়।
এই মূল্যছাড় কার্যকর থাকবে ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর প্রতি ১০ লাখ ইনপুট ও আউটপুট টোকেনের দাম বেড়ে যথাক্রমে ৪ ও ২০ ডলার হবে।
গুগলের দাবি, কোডিং, অর্থনীতি, আইন, সাইবার নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানের মতো ক্ষেত্রে জটিল কাজ করতে সক্ষম জেমিনি ৪ আর্গন। বিভিন্ন সক্ষমতা যাচাইয়ের পরীক্ষায় এটি অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় এআই মডেলকে ছাড়িয়ে গেছে। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাতে কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ভ্যালস ইনডেক্সেও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে মডেলটি।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অ্যান্টিগ্র্যাভিটিতে আর্গন ব্যবহারের ফলে এআই এজেন্টের কোড জমা দেওয়ার হার ৩৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সঙ্গে কোডের পরিবর্তন ফিরিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
ক্রোম ব্রাউজারের পুরোনো কোড থেকে ওয়েবপেজ পরিচালনার মূল অংশ আলাদা করার কাজেও মডেলটি সহায়তা করেছে বলে জানিয়েছে গুগল। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সাধারণত যে কাজে কয়েক মাস সময় লাগত, তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
গুগলের তথ্য অনুযায়ী, ডেলয়েট, লেক্সিসনেক্সিস, অ্যাম্বিয়েন্স হেলথকেয়ার ও আইসোমরফিক ল্যাবসের মতো প্রতিষ্ঠান গবেষণা, নথি সমন্বয়, দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বিশ্লেষণ এবং বড় কোডভান্ডার বিশ্লেষণের কাজে মডেলটি পরীক্ষা করছে।
গুগল আরও জানিয়েছে, তাদের এজেন্ট ডেভেলপমেন্ট কিটে আর্গন ব্যবহারের ফলে সেশন প্রস্তুতির সময় ৪০ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, এক্সটিবি সফটওয়্যারে অণুর গঠন পূর্বাভাস দেওয়ার কাজ সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৩ গুণ দ্রুত হয়েছে। পাশাপাশি ফেয়ারউইন্ড কর্মসূচিতে আরও কয়েক শ অংশীদার যুক্ত করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: নতুন দুই এআই মডেল আনল মেটা
নতুন এই মডেলের মাধ্যমে কোডিং, গবেষণা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআইয়ের ব্যবহার আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নিয়েছে গুগল।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








