নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ২১:২৩, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

‘তরুণদের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে হবে’

‘তরুণদের কাছে ঐতিহ্য তুলে ধরতে বই পড়ায় আগ্রহ বাড়াতে হবে’

ছবি: সংগৃহীত

প্রযুক্তির প্রভাবে তরুণ প্রজন্ম বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হলেও নিজেদের হাজার বছরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ভুলে গেলে চলবে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি আরও কার্যকরভাবে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের সংস্কৃতি হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে তরুণ প্রজন্ম যেভাবে বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে ও নতুন নতুন বিষয়ের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছে, সেই তুলনায় আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি হয়তো তাদের কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে না। এর মানে এই নয় যে আমরা নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাব। ঐতিহ্যকে কীভাবে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় উপায়ে তরুণ সমাজের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে নীতিনির্ধারক ও কর্মকর্তাদের নতুনভাবে ভাবতে হবে।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ও মননশীলতা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী পাঠচক্র বৃদ্ধি, বই পড়ার প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মতো উদ্যোগ গ্রহণের তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিশুদের দোরগোড়ায় বই পৌঁছে দেওয়ার অভিনব ও কার্যকর উপায়গুলো নিয়ে অবিলম্বে কাজ শুরু করা উচিত।

আরও পড়ুন: দেশ গঠনে অনুপ্রেরণাদায়ী তিন গুণীজনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ

সভায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে লালন উৎসব ও নজরুলবর্ষ উদযাপনের বিশেষ কর্মসূচি এবং আগামী ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠেয় শীতকালীন সাংস্কৃতিক উৎসবের রূপরেখা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়। শীতকালীন এসব আয়োজনে সার্কাস, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি, নৌকাবাইচ, ঘুড়ি উৎসব, ঘোড়দৌড়, পাপেট শো এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়।

এ ছাড়া সভায় জুলাই জাদুঘর, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি এবং জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রান্তিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে শিল্পকলা একাডেমিগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল ও সক্রিয় করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশ দেন।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে উপস্থিত প্রত্যেকেরই নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতা রয়েছে। দেশের জন্য কাজ করার দুর্লভ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা সবাই মিলে যেভাবে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ দেখতে চাই, নিজেদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই তার বাস্তবায়ন সম্ভব।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়