নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৭:০৬, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯২০ জন

ডেঙ্গুতে আরও ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৯২০ জন

ফাইল ছবি

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯২০ জন। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। আর বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৬ জন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের ডেঙ্গুবিষয়ক হালনাগাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন পুরুষ ও দুজন নারী। তাঁদের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও রাজশাহী বিভাগে একজন করে মারা গেছেন। নতুন রোগী শনাক্ত ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ডেঙ্গুর বিস্তার অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে এসেছে।

চলতি বছরের মাসভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বছরের প্রথম দুই মাসেই ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়। জানুয়ারিতে দুজন এবং ফেব্রুয়ারিতে মারা যান দুজন। মার্চ ও এপ্রিলের মৃত্যুর কোনো সংখ্যা উল্লিখিত পরিসংখ্যানে নেই। মে মাসে একজনের মৃত্যু দিয়ে আবার মৃত্যুর হিসাব শুরু হয়। এরপর জুনে ১৩, জুলাইয়ে ৩৬, আগস্টে ৪৩ এবং সেপ্টেম্বরে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অক্টোবরের প্রথম ১৩ দিনেই মারা গেছেন ৭৬ জন। অর্থাৎ, চলতি বছরের মোট মৃত্যুর বড় অংশ ঘটেছে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম ভাগে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের পর অক্টোবরেও মৃত্যুর উচ্চ হার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে আরও ৯ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯৫৪

গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এবং রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন এলাকার রোগী রয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ১৭০ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাসপাতালগুলোতে ২৪১ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বাইরের ঢাকা অঞ্চলে ভর্তি হয়েছেন ৪১৩ জন। বিভাগভিত্তিক হিসাবে চট্টগ্রামে ২৫৬ জন, খুলনায় ২৫৪, বরিশালে ২১৫, রাজশাহীতে ১৭০, ময়মনসিংহে ১১৪, রংপুরে ৭০ এবং সিলেটে ১৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এসব তথ্য থেকে বোঝা যায়, রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিভাগেও ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৬ জন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৯৯ হাজার ২০১ জন। ফলে আক্রান্ত রোগীর বড় একটি অংশ হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেলেও নতুন করে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যানেও দেশে ডেঙ্গুর বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের চিত্র দেখা যায়। ২০২৫ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মারা গিয়েছিলেন ৪১৩ জন। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের। আর ২০২৩ সালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে; ওই বছর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।

চলতি বছরের ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ইতোমধ্যে ২০২৫ ও ২০২৪ সালের পুরো বছরের হিসাবকে ছাড়িয়ে গেছে। মৃত্যুর সংখ্যাও গত দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ বার্ষিক পরিসংখ্যানের তুলনায় কম থাকলেও বছরের বাকি সময়ের পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের প্রথম ভাগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করে যথাযথ চিকিৎসার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের প্রচলিত পরামর্শ অনুযায়ী, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল ধ্বংস করা জরুরি। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়ের সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়