আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২১, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আপডেট: ১৪:০৬, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইতিহাসে প্রথমবার নারী সরকারপ্রধান পেল মরক্কো

ইতিহাসে প্রথমবার নারী সরকারপ্রধান পেল মরক্কো

ফাতিমা জাহরা মানসুরি। ছবি: সংগৃহীত

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ নিয়োগকে মরক্কোর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ফাতিমা জাহরাকে। সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এ ঘোষণা এলো। নির্বাচনে তার মধ্যপন্থী দল অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম) সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করে।

তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

মরক্কোর নির্বাচনী ব্যবস্থায় কোনো দলের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন কঠিন। ফলে ফাতিমা জাহরাকে জোট সরকার গঠন করতে হতে পারে। নতুন সরকারের সামনে এখন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ তদারকি করতে হবে তার প্রশাসনকে। পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নেও কাজ করতে হবে।

২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশটির সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের মধ্য থেকেই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজার হাতে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা ছিল।

২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মারের উদ্যোগে প্যাম প্রতিষ্ঠিত হলে দলটিতে যোগ দেন ফাতিমা জাহরা। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি। ২০২৪ সালে দলটির অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন ফাতিমা।

এর আগে মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ফাতিমা জাহরার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত ছিলেন। তিনি মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং মারাকেশের পাশা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের ঘটনায় ব্যক্তিগত সুবিধা নিতে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের সমালোচনার মুখে পড়েন ফাতিমা জাহরা। তবে তিনি অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন। দলটি প্রতিষ্ঠার পর এটিই তাদের প্রথম বড় নির্বাচনী বিজয়।

গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশটির প্রথম নির্বাচন। নির্বাচনের পর এখন নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

আরও পড়ুন: বেলুচ নারী কমব্যাট ইউনিটের হামলায় ৯ পাক সেনা নিহত

প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে মধ্যপন্থী ইসলামি দল জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি এবং বামপন্থী ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফটসহ কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরির নেতৃত্বে মরক্কোর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অগ্রাধিকারে কী পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়