চ্যাটজিপিটির ভেতরেই মিলবে প্রয়োজনীয় অ্যাপ
ছবি: সংগৃহীত
শুধু তথ্য খোঁজা বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, এবার চ্যাটজিপিটির মাধ্যমেই বিভিন্ন অ্যাপ খুঁজে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি করছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটির নতুন উদ্যোগের ফলে ব্যবহারকারীরা চ্যাটজিপিটির ভেতর থেকেই প্রয়োজনীয় অ্যাপ খুঁজে বের করা, চালু করা এবং ব্যবহার করতে পারবেন। এতে প্রচলিত অ্যাপ স্টোর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের সানফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত ওপেনএআইয়ের ডেভ ডে অনুষ্ঠানে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলসহ বিভিন্ন সুবিধার ঘোষণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে ডটস নামের স্বয়ংক্রিয় এআই সহকারী। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে চ্যাটজিপিটিকে অ্যাপ ও সফটওয়্যার ব্যবহারের একটি কেন্দ্রীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি।
ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন ১২০ কোটির বেশি মানুষ। এই বিশাল ব্যবহারকারীভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে কথোপকথনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় অ্যাপের পরামর্শ দেখানো হবে। কোনো কাজ সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট অ্যাপের প্রয়োজন হলে চ্যাটজিপিটি সেটি ব্যবহারকারীকে জানাবে এবং সেখান থেকেই অ্যাপটি ব্যবহার করা যাবে।
এ জন্য চ্যাটজিপিটির অ্যাপ সংযুক্তির ব্যবস্থাও সম্প্রসারণ করছে ওপেনএআই। বিভিন্ন অ্যাপের নির্মাতারা চ্যাটজিপিটির ভেতরে নিজেদের সেবার জন্য ব্যবহারযোগ্য প্যানেল বা নেটিভ অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারবেন। পাশাপাশি সাইন ইন উইথ চ্যাটজিপিটি সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চ্যাটজিপিটি পরিচয় ব্যবহার করে তৃতীয় পক্ষের বিভিন্ন অ্যাপে প্রবেশ করতে পারবেন। শুরুতে ১৬টি প্রতিষ্ঠান এ সুবিধার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
ওপেনএআইয়ের নতুন স্বয়ংক্রিয় এআই সহকারী ডটস ব্যবহারকারীর হয়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারবে। এর নিজস্ব ক্লাউড কম্পিউটার ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সক্ষমতা থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী এটি চ্যাটজিপিটির সঙ্গে সংযুক্ত বিভিন্ন অ্যাপও ব্যবহার করতে পারবে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ডটস ৪ হাজারের বেশি অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কাজ করতে পারবে। ফলে ব্যবহারকারীকে প্রতিটি কাজের জন্য আলাদাভাবে অ্যাপ খুঁজে বের করার প্রয়োজন নাও হতে পারে। এআই সহকারীই প্রয়োজনীয় অ্যাপ নির্বাচন করে কাজ সম্পন্ন করতে পারবে।
প্রাথমিকভাবে ডটস চ্যাটজিপিটি প্রো, বিজনেস প্রিমিয়াম ও এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য চালু করা হয়েছে। ব্যবহারকারীরা এর মাধ্যমে সফটওয়্যার উন্নয়ন, কনটেন্ট তৈরি এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক কাজসহ নানা ধরনের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: এআই নিরাপত্তায় যৌথ স্বাধীন সংস্থা গড়ছে গুগল
তবে প্রচলিত অ্যাপ স্টোরের মতো অ্যাপ বিক্রি বা অর্থ ভাগাভাগির পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত ঘোষণা দেয়নি ওপেনএআই। আপাতত অ্যাপ খোঁজা, সংযুক্ত করা এবং চ্যাটজিপিটির ভেতরেই ব্যবহারযোগ্য করে তোলার অবকাঠামো তৈরির দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








