পানামায় ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
ছবি: সংগৃহীত
মধ্য আমেরিকার দেশ পানামায় ৭ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে। ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা ৩টার কিছু আগে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। বাংলাদেশ সময় তখন শনিবার রাত প্রায় ৩টা। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, দক্ষিণ-মধ্য পানামার পিতালোজা আরিবা শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল। ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১২ কিলোমিটার গভীরে ছিল এর কেন্দ্র।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করেছেন প্রায় ৪৬ লাখ মানুষ। বিস্তৃত অঞ্চলে এর প্রভাব পড়েছে। উৎপত্তিস্থল অগভীর হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে পানামার একাধিক শহরে ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্র দেখা গেছে। পেনোনোমে ও সোনাসহ কয়েকটি এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে। যাচাই করা একটি ভিডিওতে পেনোনোমের একটি গির্জার এক পাশ ও একটি চূড়া ভেঙে পড়তে দেখা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে স্থানীয় একটি হোটেল প্রায় পুরোপুরি ধসে পড়ার দৃশ্য উঠে এসেছে।
ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আছেন কি না, তা জানতে ডাকাডাকি করতে দেখা যায়। তবে ওই ঘটনায় কেউ আটকা পড়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পে দেশজুড়ে কতটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি মূল্যায়নের পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পানামার দক্ষিণাঞ্চলীয় হেরেরা প্রদেশের লাস মিনাস এলাকার বাসিন্দা রিকার্ডো ব্রাউন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, ভূমিকম্পে তাঁর প্রতিবেশীদের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ায় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
৭৪ বছর বয়সী ব্রাউন বলেন, আমরা আতঙ্কিত। এখানে আমরা দুজন বয়স্ক মানুষ থাকি। বাড়িতে ফাটল ধরেছে। ভয় হচ্ছে, এটি আমাদের ওপর ধসে পড়তে পারে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর রাজধানী পানামা সিটির বিভিন্ন ভবন থেকে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের এই শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়। কম্পন থামার পর অনেককে ভবনে ফিরে না গিয়ে রাস্তায় ও আশপাশের পার্কে অবস্থান করতে দেখা যায়।
আরও পড়ুন: দিল্লির যন্তরমন্তরের আশপাশে ২৪ ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ
ভূমিকম্পের পর বিদ্যুৎ বিপর্যয় ও ফ্লাইট চলাচল বন্ধের খবরও পাওয়া গেছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিমান চলাচল পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিউজবাংলাদেশ.কম/এসবি








