হুতির হামলায় সৌদির দুই বিমানবন্দরে নিহত ৩, আহত ৩৬
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের দুটি প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের চালানো সমন্বিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনজন নিহত এবং অন্তত ৩৬ জন আহত হয়েছেন।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশনের (জাকা) প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আঞ্চলিক এই সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিমানবন্দরগুলোতে হামলার ভয়াবহতা ও হতাহতের বিবরণগত মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) ও বুধবার (০৭ অক্টোবর) পরপর দুই দিন সৌদির দক্ষিণাঞ্চলীয় আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং রাজধানী রিয়াদের কৌশলগত কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই পৃথক হামলাগুলো চালানো হয়।
সীমান্তসংলগ্ন আভা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই নারী নিহত হয়েছেন, যাদের একজন মরক্কোর এবং অন্যজন আলজেরিয়ার নাগরিক। এই হামলায় আরও ২৮ জন যাত্রী ও কর্মী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় সুদানের এক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। এখানে পাঁচজন সৌদি নাগরিকসহ মোট আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মিসর ও পাকিস্তানের কয়েকজন নাগরিকও রয়েছেন।
হামলার পর বিমানবন্দর দুটির কয়েকটি অবকাঠামো ও স্থাপনা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আরও পড়ুন: সক্রিয় মক্কা জোট, সৌদির পাশে পাকিস্তান-তুরস্ক
জাকা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নিরূপণ করতে এবং যাত্রী ও কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনীগুলো একযোগে কাজ করছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, রিয়াদের উত্তরাঞ্চলে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে মাঝআকাশে প্রতিহত করে ধ্বংস করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি রাজধানীতে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত একটি লঞ্চিং প্যাড ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম ধ্বংস করেছে জোট বাহিনী।চলমান এই উত্তেজনার জেরে রিয়াদ বিমানবন্দরের নিকটবর্তী সৌদির রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জ্বালানি ট্যাংক এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জামের চারপাশে নতুন করে সুদৃঢ় নিরাপত্তাবেষ্টনী বা খাঁচার মতো বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বরও রিয়াদ বিমানবন্দরের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছিল এবং জ্বালানি সংরক্ষণ এলাকায় কালো ধোঁয়া উড়তে দেখা গিয়েছিল।এডেন বিমানবন্দর ও আঞ্চলিক সংঘাতে নতুন মাত্রাআন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেনি সরকারের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের চলমান সংঘাত বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে। লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালির উভয় পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুতিরা। এই অগ্রসরের অংশ হিসেবে বুধবার ভোরে এডেন বিমানবন্দর ও এর আশপাশের সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্য করেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের এই অবনতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে বসবাসরত সব মার্কিন নাগরিকের জন্য নতুন করে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করেছে রিয়াদের মার্কিন দূতাবাস। বিবৃতিতে মার্কিন নাগরিকদের অতিরিক্ত সতর্কতা ও সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ বিশ্লেষকদের মতে এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা গোটা অঞ্চলের অর্থনীতি ও বিমান চলাচলে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি








