আন্তর্জাতিক ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ০৮:২৬, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় নয়াদিল্লি

ঢাকার সঙ্গে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সম্পর্ক চায় নয়াদিল্লি

ফাইল ছবি

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী ধারায় এগিয়ে নেওয়ার ওপর আবারও জোর দিয়েছে ভারত। দুই দেশের পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং অংশীদারিত্বের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে সাধারণ মানুষকে রাখার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। 

বুধবার (০৭ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক সহযোগিতার নানা দিক তুলে ধরে এই অবস্থান স্পষ্ট করেন।

জনগণকেন্দ্রিক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পৃক্ততাপররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সংবাদ সম্মেলনে জানান যে বাংলাদেশের বিষয়ে ভারতের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত স্পষ্ট উভয় দেশের পারস্পরিক প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই গঠনমূলক ও দূরদর্শী সম্পৃক্ততা বজায় রাখতে চায় দিল্লি। 

তিনি উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চলমান সমস্ত কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বৈঠকে মূলত পারস্পরিক জনকল্যাণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং অভিন্ন সমৃদ্ধির বিষয়গুলোই প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কিছু বিতর্কিত বা অমীমাংসিত বিষয় ও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান থাকলেও একটি কাঠামোগত ব্যবস্থার মাধ্যমে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধানের পথ খুঁজছে দুই দেশ।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জসাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব জোরদার করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে ভারতের নতুন বার্তা

তবে সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হলো ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার দলের নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রণধীর জয়সওয়াল সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান যে ভারতের মূল লক্ষ্য দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন, শান্তি ও জনকল্যাণমূলক সম্পর্ক সুদৃঢ় করা। আগামী দিনে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যকার প্রতিটি উচ্চপর্যায়ের আলোচনাতেও এই ইতিবাচক এজেন্ডাগুলোই প্রাধান্য পাবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ: আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়াবাংলাদেশের পক্ষ থেকে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) বিচারের নথি ও আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানোর পর বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে একটি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। দুদেশের প্রচলিত দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি এবং সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর নিয়মকানুন মেনেই এই অনুরোধটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক কনভারসেশন সেশনেও মন্তব্য করেছিলেন যে, ২০২৪ সালের আগস্টে চরম রাজনৈতিক সংকটের মুখে হঠাৎ সৃষ্ট নাটকীয় পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনাকে বহনকারী সামরিক বিমানটি ভারতের আকাশসীমায় অবতরণ করে। নিকটতম প্রতিবেশী হিসেবে তাৎক্ষণিক মানবিক ও বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে গিয়ে ওই সময় ভারতের কাছে অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তবে বর্তমানে তার উপস্থিতি বা রাজনৈতিক তৎপরতাকে ভারত সরকার সমর্থন করে না এবং প্রত্যর্পণের মতো সংবেদনশীল ও কাঠামোগত বিষয়গুলো আবেগ বা তাড়াহুড়ো দিয়ে নয়, বরং কঠোরভাবে আইনগত ও বিচারিক পথেই নির্ধারিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে নয়াদিল্লি।

বাণিজ্য, পানি ও সামগ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতাশুধুমাত্র রাজনৈতিক বা সংকীর্ণ ভূরাজনৈতিক স্বার্থের গণ্ডিতেই নয়, বরং বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুদিনের গভীর সাংস্কৃতিক, মনস্তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। পানি বণ্টন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক সংযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বিদ্যমান যৌথ নদী কমিশনসহ অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমেই আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে উভয় দেশ। বিশেষ করে জ্বালানি সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসা বিভিন্ন প্রস্তাব ভারত সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে পর্যালোচনা করছে। সব মিলিয়ে নানা জটিলতা ও ভিন্নমাত্রা সত্ত্বেও পারস্পরিক আস্থা, সার্বভৌমত্ব এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ সহযোগিতার মাধ্যমেই দুই দেশের ভবিষ্যৎ অংশীদারত্ব সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়