News Bangladesh

নিউজ ডেস্ক || নিউজবাংলাদেশ

প্রকাশিত: ১৫:৩৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বরিশালে আদালতে ভাঙচুর, আইনজীবী সভাপতি লিংকন গ্রেফতার

বরিশালে আদালতে ভাঙচুর, আইনজীবী সভাপতি লিংকন গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালে আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও হট্টগোলের অভিযোগে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদিকুর রহমান লিংকনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আদালত চত্বর ও আইনজীবী সমিতির কার্যালয় থেকে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতারের পর আদালত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিচারিক কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে যায়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করে জানান, আদালতের এজলাসে ভাঙচুর ও বিচারকার্যে বাধা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে তাকে আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুনুল হকও গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ঘটনার সূত্রপাত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি), যখন কার্যক্রম নিষিদ্ধ বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এস এম শরীয়তউল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন লাভ করেন। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি একই আদালত সাবেক সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজ, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন এবং মহানগর যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদুল হক খান মামুনকে জামিন দেন। পরে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুল ইসলাম ছবিকেও জামিন দেওয়া হয়।

এই জামিন আদেশে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বানে মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মহানগর সংশ্লিষ্ট সব আদালত বর্জন করা হয়। তারা সংশ্লিষ্ট বিচারকের অপসারণ ও তালুকদার ইউনুসের জামিন বাতিলের দাবি জানান।

মঙ্গলবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এজলাসে প্রবেশ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনসহ কয়েকজন আইনজীবী হট্টগোল, বেঞ্চে ধাক্কাধাক্কি ও কাগজপত্র তছনছ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিচারক এস এম শরীয়তউল্লাহ একটি মামলার শুনানি চলাকালে আইনজীবীদের একটি দল এজলাস কক্ষে ঢুকে চিৎকার শুরু করেন। তারা বিচারপ্রার্থীদের বসার বেঞ্চ উল্টে দেন, কাগজপত্র ছুড়ে ফেলেন এবং বিচারকের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে বক্তব্য দেন। এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন: হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের ওপর হামলা

বুধবার সকালে আদালত প্রাঙ্গণে সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশের সদস্যরা প্রবেশ করে আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সভাপতির কক্ষে যান। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে অতিরিক্ত মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেওয়া হয়। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে আদালতের গারদখানায় রাখা হয়।

গ্রেফতারের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালত চত্বরে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ‘সভাপতিকে মুক্তি দিতে হবে’, ‘অবৈধ গ্রেফতার মানি না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং আদালত বর্জনের ঘোষণা দেন। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতারা ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন।

বরিশাল জজ কোর্টের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট হাফিজ আহমেদ বাবলু অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে সভাপতিকে তার আসন থেকে তুলে নিয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এর প্রতিবাদে তারা মিছিল ও আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানান, অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সভাপতির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলেই তাকে আটক করা হয়েছে।

এদিকে আদালত কক্ষে ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিচারকরাও বিচার কার্যক্রম বন্ধ রাখেন। সকাল থেকেই আদালত চত্বরে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। দূরদূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েন।

আদালত সূত্র জানায়, মঙ্গলবারের এজলাসে হামলার ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তবে জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে এজলাসে ভাঙচুরের অভিযোগ, সভাপতির গ্রেফতার, আইনজীবীদের বিক্ষোভ ও বিচার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ায় বরিশাল আদালতপাড়ায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিউজবাংলাদেশ.কম/পলি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়